× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জ্ঞান দেবে সিসিডিবি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২২ ২২:০২ পিএম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৩:০৩ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে শনিবার সিসিডিবির জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠান। ছবি : প্রবা

গাজীপুরের শ্রীপুরে শনিবার সিসিডিবির জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠান। ছবি : প্রবা

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢু মেরে দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব জানা যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। এই খাতে কাজ করা সংস্থা ও গবেষকদের লক্ষ্য করে কেন্দ্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (সিসিডিবি) দেশে প্রথমবারের মতো এমন প্রকল্প প্রস্তুত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রটি সহায়ক হবে বলে মনে করে সিসিডিবি।

শনিবার (১ অক্টোবর) কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর কারণে বিশ্বের যে কয়টি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের অন্য খাতগুলোর মধ্যে কৃষি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেই ক্ষতি এড়াতে আরও আগে থেকেই কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। লবণ, খরা ও বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য ফসলের বীজ উৎপাদনে কাজ করছেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামে ৫৭ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জলবায়ু কেন্দ্রটি। সুবিস্তৃত এই জায়গায় প্রতিবেশের পাঁচ ধরনের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আলাদাভাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওরাঞ্চল, পাহাড় ও চর এলাকার পরিবেশের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কেন্দ্রটিতে। এই পাঁচ এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে গ্রহণ করা নানা প্রযুক্তির ব্যবহারও শুরু হয়েছে। লবণসহিষ্ণু ফসলের পরীক্ষাগার, ফসল সংরক্ষণের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সেচ ও বিদ্যুতের সমন্বিত পরীক্ষাগার, উপকূলীয় এলাকার জুতসই ঘর, বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য বাতি, বাতাস থেকে পানি উৎপাদনের ফিল্টার, উপকূলীয় ও হাওরাঞ্চলে ভাসমান সবজি প্ল্যান্ট এবং লবণাক্ত পানি পানযোগ্য করার প্রযুক্তি স্থান পেয়েছে এই কেন্দ্রে। এলাকাভেদে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে সেখানে। এর বাইরে জলবায়ু অভিযোজনে স্থানীয়ভাবে নেওয়া দীর্ঘদিনের এসব প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সিসিডিবি। 

মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা  নিজেরা জলবায়ু তহবিল গঠন করেছি। প্রথম বছর সেই তহবিলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়ে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রটি স্থাপনের ফলে জলবায়ু নিয়ে গবেষণা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’ 

সিসিডিবির কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিতে পারে শঙ্কা। কারণ জলবায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট খরা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘন হানা দিচ্ছে দেশে। ফলে অসংখ্য মানুষ বসতভিটা হারিয়ে জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে। এর বাইরে সমুদ্রের পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলের বৃহৎ অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এত সব ঝুঁকি থাকার পরও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না দেশে। জলবায়ুর এই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১৩ সালে জলবায়ু কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সিসিডিবি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সাল থেকে সিসিডিবির নিজস্ব জমিতে শুরু হয় কেন্দ্রটি স্থাপনের কাজ। এতে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে জার্মানভিত্তিক দাতা সংস্থা ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড।

জলবায়ু কেন্দ্রের পরামর্শক ও ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাডভাইসের পরিচালক থমাস র্হিশ বলেন, ‘জলবায়ু ইস্যুতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনই। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

দাতা সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলবে প্রতিদিনের বাংলাদেশের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দাতা সংস্থা সব সময় অর্থ দেয় না--এটা ঠিক। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। এখানে গবেষকদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন এসে প্রশিক্ষণ নেবেন। তাদের কাছ থেকে উপার্জন করা হবে। ব্যয় মেটানোর জন্য টেকসই নানা ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

সিসিডিবির কর্মকর্তারা মনে করেন, কেন্দ্রটি সব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে। নিতে পারবে প্রশিক্ষণ। এ ছাড়া জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি ও অনুশীলন নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে কেন্দ্রটিতে। টেকসই হলে যে কারও প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন জায়গা পাবে এখানে। 

সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার বলেন, ‘কেন্দ্রটি আমরা প্রতিষ্ঠা করলেও এটি আসলে সবার। জলবায়ু কেন্দ্রটি আমরা তৈরি করেছি; কিন্তু এটি সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব জলবায়ু ইস্যুতে কাজ করা সব প্রতিষ্ঠানের। কেন্দ্রটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ 

কেন্দ্রটিকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর এবং সিসিডিবির উপদেষ্টামণ্ডলীর কো-চেয়ার ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একদিকে বৃষ্টি হয় অন্যদিকে জলোচ্ছ্বাস হয়। ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে লবণাক্ত করে ফসলের মাঠ। বরিশালের মতো নগরীতেও এখন পানি উঠে যায়। এটি জলবায়ুর প্রভাব। জলবায়ুর এই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই আমাদের সময়োপযোগী প্রযুক্তি নিতে হবে।’ 


প্রবা/টিকে/এমজে/

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা