× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নদী দূষণ

চাঁদপুরে খাঁচায় মাছ চাষ ঝুঁকিতে

চাঁদপুর সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৪৮ পিএম

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৩২ পিএম

ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ। ছবি : সংগৃহীত

ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ। ছবি : সংগৃহীত

ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষণের কারণে অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে চাঁদপুরে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ প্রকল্প। খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পানি দূষণ এবং মাছের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া এবং অন্য নানা সংকটে জর্জরিত চাঁদপুরের ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ প্রকল্পের চাষিরা। এরই মধ্যে পুঁজি হারিয়ে অনেক চাষি বন্ধ করে দিয়েছেন চাষাবাদ। চাষিদের দাবি, পানি দূষণে মাছ মরে যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা।

শহরের পুরানবাজার, নতুনবাজার, রঘুনাথপুরের খাঁচায় মাছচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০২ সালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচাপদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়। তবে অন্য সব পদ্ধতির তুলনায় ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ অনেকটা লাভজনক ও সাশ্রয়ী। আর তাই ডাকাতিয়া নদীর পাশাপাশি জেলার পদ্মা, মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতেও খাঁচায় ভাসমান অবস্থায় মাছ চাষির সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু মাছের খাদ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, কারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে মেশা এবং কচুরিপানা বৃদ্ধি পাওয়ায় খাঁচার মাছ মারা যেতে শুরু করে। এ ছাড়া চাষ করা মাছের ন্যায্য দাম বাজারে না পাওয়ায় দিন দিনই আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে করে গত এক বছরে শতাধিক খাঁচা বন্ধ হয়ে গেছে।

রঘুনাথপুরের আলমগীর বলেন, তিনি ডাকাতিয়া নদীতে ৪০০ খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ করছিলেন। ২০১৯ সালের পর নানা সংকটের কারণে তার এখন মাত্র ১০০ খাঁচা আছে। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তাদের পক্ষে খাঁচায় মাছ চাষ প্রকল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খাঁচায় মাছ চাষ চাঁদপুরে বেশ জনপ্রিয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাত্র ৫৭৮ জন খাঁচায় মাছ চাষ করতেন এ জেলায়। তখন মাছের উৎপাদন ছিল ২২৭ মেট্রিক টন। আর খাঁচার মোট আয়তন ছিল ১০ হাজার ৭৩৯ ঘনমিটার। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে খাঁচায় মাছ চাষ করেন ২ হাজার ৪৪০ জন। যেখানে মাছের উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৪ মেট্রিক টন। খাঁচার মোট আয়তন ৪৫ হাজার ৩৩৫ ঘনমিটার। তবে খাঁচার দৈর্ঘ ১৮.৫৮ ঘনমিটার অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছ চাষিরা জানান, বিভিন্ন কল-কারখানার ময়লা নদীর পানিকে দূষিত করছে। ডাকাতিয়া নদীর খাঁচায় অনেক মাছ মারা যায়। তারা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলেও পরিদর্শন করাতে পারেননি। তারা সংশ্লিষ্টদের সহায়তা কামনা করেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, খাঁচার মাছ খুব সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। তবে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও অন্য কিছু বিষয় নিয়ে চাষিরা কষ্টে আছেন। কৃষির মতো মাছের খাদ্যেও যাতে ভর্তুকি দেওয়া হয় সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলো থেকেও যাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয় সে অনুরোধও জানানো হয়েছে। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও মৎস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুরে ঘুরে মাছ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রবা/ইউরি /এসআর/টিকে
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা