প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:১০ পিএম
গঙ্গাবিলাসে ৫১ দিনের ভ্রমণে প্রতি পর্যটকের ২০ থেকে ২৫ লাখ রুপি খরচ হবে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসি থেকে ‘এমভি গঙ্গাবিলাস’ নামের একটি প্রমোদতরীর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫১ দিনে এটি ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ হয়ে আসামের দিব্রুগড় শহরে পৌঁছাবে, যা বিশ্বে কোনো প্রমোদতরীর দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়া। কিন্তু গঙ্গাবিলাসের চলাচলের কারণে প্রায় চার হাজার ডলফিন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এই প্রমোদতরী বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে ভারতের পূর্বাঞ্চলের অনেক স্থানকে তুলে ধরবে। দুঃখের বিষয় হলো, দেশ স্বাধীনের পর থেকে গঙ্গার তীর ও তাতে বসবাসরত মানুষকে নিয়ে বেশি একটা ভাবা হয়নি। ফলে আয়-রোজগারের জন্য তাদের দেশের অন্যত্র পাড়ি জমাতে হয়েছে। এখন তারা নিজ শহর থেকেই আয় করতে পারবেন।’
গঙ্গাবিলাসের বৈশিষ্ট্য
তিনতলা বিশিষ্ট্য গঙ্গাবিলাসে পাঁচ তারকা মানের হোটেলের সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ১৮টি স্যুটে ৩৬ জন্য পর্যটক থাকতে পারবেন। মূল ডেকে রয়েছে ৪০ আসনের একটি রেস্তোরাঁ। স্পা সেন্টার, ফ্রেন্স বেলকনি থেকে শুরু করে সূর্যস্নানের মতো সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
৫১ দিনে ২৭টি নদী ব্যবস্থা পাড়ি দিতে দিতে ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রে ঢুঁ মারতে পারবেন পর্যটকেরা।
খরচ
গঙ্গাবিলাসে প্রতি যাত্রীর দৈনিক ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি খরচ হবে। অর্থাৎ ৫১ দিনের সফর শেষ করতে প্রতি যাত্রীর ২০ থেকে ২৫ লাখ রুপি খরচ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে।
যাত্রী
গঙ্গাবিলাসে দেশি ও বিদেশি যে কেউ ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে এবার যারা যাত্রী হয়েছেন, তাদের ৩২ জন সুইজারল্যান্ডের। আর বাকিরা যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের মার্চ, তথা আগামী দুবছরের জন্য গঙ্গবিলাসে কোনো আসন খালি নেই বলে জানিয়েছেন প্রমোদতরীটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌদামিনি মাথুর।
রুট
প্রমোদতরীটি বারানসি থেকে যাত্রা করার নবম দিনে বিহারের পাটনা বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে ২০তম দিনে পৌঁছাবে কলকাতায়। সেখানে এক দিন যাত্রা বিরতি করবে। সেখান থেকে ‘গঙ্গাবিলাস’ বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। পুনরায় ভারতে ঢুকে শেষ গন্তব্য আসামের দিব্রুগড়ে পৌঁছার আগে প্রমোদতরীটি বাংলাদেশে ১৫ দিন পার করবে।
বাংলাদেশে ১৫ দিনে ‘গঙ্গাবিলাস’ প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুটের অধীনে প্রমোদতরীটি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চলাচল করবে। প্রোটোকলটির অধীনে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে।
পরিচালনা
বারানসি-দিব্রুগড় রুটের এ প্রমোদতরী পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এজন্য ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই) ভারতের প্রমোদতরী কোম্পানি অন্তরা লাক্সারি রিভার ক্রুস ও বাংলাদেশের পর্যটন সেবা প্রদানকারী কোম্পানি জেএম বক্সি রিভার ক্রুজের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।
পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ
গঙ্গাবিলাস যেসব রুট দিয়ে চলাচল করবে তাতে ডলফিনের অনেকগুলো অভয়ারণ্য রয়েছে। বারানসির ৩০ কিলোমিটার অদূরে কাইথি নামের একটি গ্রামের পাশ দিয়ে যাবে গঙ্গাবিলাস। গঙ্গা ও গোমতী নদীর ওই সংযোগস্থল বিপন্ন ডলফিনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
গঙ্গাবিলাসের চলাচলের কারণে বিহারের বিক্রমশিলা গাঙ্গেয় ডলফিন অভয়ারণ্যও ঝুঁকিতে পড়বে।

গার্ডিয়ান জানায়, ভারতের বিখ্যাত পরিবেশবিদ ও ডলফিন বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘এই প্রমোদতরী বিপন্ন ডলফিনদের আরও ঝুঁকিতে ফেলবে। এমনকি এসব ডলফিন একটা সময় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’
‘গঙ্গাবিলাসের রুটের বিভিন্ন বাঁকে প্রায় চার হাজার ডলফিনের বসবাস। একসময় এসব ডলফিন চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এই সব ডলফিনের পরিণতি হতে পরে চীনের বাইজি ডলফিনের মতো। অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের কারণে ২০০৬ সালে ইয়াংতজে নদীর বাইজি ডলফিনকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।’
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, গার্ডিয়ান, এনডিটিভি।