বাহার উদ্দিন, পেকুয়া
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
বাণিজ্যিকভাবে লিচু বাগান গড়ে তুলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন ইউনুস। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষ। সুস্বাদু, বড় আকৃতির এবং বাজারে অধিক দামের কারণে এ জাতের লিচু এখন কৃষক ইউনুসের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক সময় যেখানে ইউনুস শুধু ধান, সবজি কিংবা মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেখানে এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে লিচু বাগান গড়ে তুলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সরজমিনে উপজেলার টইটং ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে চায়না থ্রি জাতের লিচু বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় লাল টুকটুকে লিচু। বাগানগুলো ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাজারে প্রতিদিনই এসব লিচু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
লিচু চাষি ইউনুস বলেন, “চায়না-থ্রি জাতের লিচু চাষের জন্য প্রচুর জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ, সুনিষ্কাশিত ও উর্বর দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। লিচু গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই পানি জমে থাকে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে”।
ইউনুস জানান, কয়েক বছর আগেও সে বিভিন্ন ফসল চাষ করে তেমন লাভবান হতে পারেননি। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে চায়না থ্রি জাতের লিচু গাছ রোপণ করেন। প্রথম দিকেই ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় এখন বড় পরিসরে লিচু চাষে ঝুঁকছেন ঐ এলাকার অনেক চাষিরা।
প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজশাহী থেকে তিনি ৩০ টি লিচু গাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে শতাধিক গাছ রয়েছে। চায়না থ্রি লিচুর বাজার চাহিদা অনেক বেশি। প্রতি মৌসুমে ভালো দাম পাওয়া যায়। এ বছরও বাগান থেকে কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছি। লিচু চাষ করে এখন সংসারের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।
ইউনুসের দাবি, চায়না থ্রি জাতের লিচু অন্যান্য জাতের তুলনায় আকারে বড়, খেতে মিষ্টি এবং দীর্ঘসময় সতেজ থাকে। ফলে বাজারে এর কদরও বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পেকুয়ার লিচু এখন কক্সবাজার ছাড়িয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।
এদিকে লিচু বাগানকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি কর্মসংস্থানও। মৌসুম এলেই বাগান পরিচর্যা, লিচু সংগ্রহ, প্যাকেটজাতকরণ ও পরিবহনের কাজে অনেক শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন। এতে এলাকার বেকার যুবকদের আয় রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়ার মাটি ও জলবায়ু চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা (অতিরিক্ত) অসীম কুমার দাশ বলেছেন, “ভবিষ্যতে পরিকল্পিতভাবে চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পেকুয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেকুয়ার লিচুর আলাদা পরিচিতি তৈরি হবে। মাঠে চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষের জন্য স্থানীয় চাষিদের কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উৎসাহ এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবো”।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে আরও অনেক কৃষক লিচু চাষে আগ্রহী হবেন। এতে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।