ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষক
সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ১৯:১০ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ১৯:১৩ পিএম
উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। ফসল রক্ষায় বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকেরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ২১ হাজার কৃষক। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের ফসল হারিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান শুক্রবার ফসলহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় তা দ্রুত বাড়ছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩.০১ মিটারে দাঁড়িয়েছে। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২.৬৩ মিটার এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ২.৩০ মিটারে পৌঁছেছে। ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি বেড়েছে ২ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনভর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় কৃষকরা স্বস্তিতে ধান কাটার কাজ শুরু করেছিলেন। তবে শুক্রবার সকাল থেকে আবারও মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় সেই কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক জায়গায় কৃষকদের বুক সমান পানি বা ডিঙি নৌকায় করে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে দেখা গেছে। এদিকে ধান শুকানোর জায়গা বা ‘খলা’গুলোতে পানি জমে যাওয়ায় মাড়াই ও সংরক্ষণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষক-কৃষাণীদের।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেলায় আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে স্থানীয় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। কৃষকদের ভাষ্য, ইতিমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফসলি জমি এখন জলমগ্ন, যার ফলে তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই ম্লান হতে চলেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমতে পারে।