প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৬ পিএম
নতুন উদ্ভাবিত ধানে জাত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো দুটি হাইব্রিডসহ আরও ছয়টি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত।
কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত এসব জাত সারা দেশে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ কালো চালের জাত, একটি লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ঠাণ্ডা সহনশীল জাত এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত। সর্বশেষ এসব ছয়টি জাত যুক্ত হওয়ায় ব্রি উদ্ভাবিত মোট ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২৭টিতে।
ব্রি সূত্রে জানা যায়, ব্রি ধান-১১৫ একটি ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের ধান, যার গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন।
ব্রি ধান-১১৬ কি
ব্রি ধান-১১৬ বোরো মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল নাবি জাত, যার গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.৫৯ টন এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ১০ টনের বেশি ফলন সম্ভব। জাতটি সহজে ঢলে পড়ে না এবং ব্রি ধান-৯২-এর বিকল্প হিসেবে আবাদযোগ্য।
ব্রি ধান-১১৭ বোরো মৌসুমের স্বল্প জীবনকালীন লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.৬ টন এবং জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন।
হাওরাঞ্চলের জন্য উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১১৮ একটি ঠাণ্ডা সহনশীল জাত। আগাম বা স্বাভাবিক সময়ে বপনে এ জাত থেকে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
এছাড়া ব্রি হাইব্রিড ধান-৯ মাঝারি লবণাক্ততা সহনশীল ও ঢলে পড়া প্রতিরোধী। কৃষকের মাঠে এ জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি ৯.৫ থেকে ১০.৫ টন।
অন্যদিকে ব্রি হাইব্রিড ধান-১০ ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং স্বাভাবিক অবস্থায় হেক্টরপ্রতি ৯.৭ থেকে ১০.৭ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
ব্রি সূত্র জানায়, নতুন জাতগুলোসহ ব্রির বর্তমানে ৩৯টি ধানের জাত বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরী পরিবেশ সহনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে এলেও খাদ্য উৎপাদন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রি।