কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
জয়পুরহাটে কালাইয়ে আলুর দাম কম হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানে কাঁদছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। উপজেলার প্রসিদ্ধ প্রধান ফসল আলুতে কপাল পুড়ছে তাদের। দেশের বাজারে আলুর দাম স্থিতিশীল রাখতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, এ বছর কালাই উপজেলাসহ জয়পুরহাট জেলায় ২১টি হিমাগারে মোট আলু মজুত করা হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত লাভের আশায় যে আলু মজুত করা হয়েছিল, তা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
আলুচাষি সজিবুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত মৌসুমের শুরুতেই বীজআলুর বাজার ছিল সিন্ডিকেটের দখলে। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বীজআলু ও সার সংগ্রহ করতে হয়েছে। এজন্য বিঘা প্রতি খরচও বেড়েছিল। সেই আলু হিমাগারে রেখে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্টিক জাতের আলু হিমাগারে বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা কেজি দরে। যেখানে আলুর হিমাগার ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা।
আলুচাষি সোহেল রানা জানান, হিমাগারে আলু রেখেছি ৩০ বস্তা। গতবছর ১ বস্তা আলুর দাম পেয়েছি ৩ হাজার টাকা। এবছর ৩০ বস্তা আলু বিক্রি করেও ৩ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার আলু ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য। ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলুতে খরচ পরেছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা। বর্তমানে সেই আলু হিমাগারে প্রতি বস্তা ভাড়াসহ বিক্রি হচ্ছে ৫৮০-৬১০ টাকা। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীর প্রতি বস্তা আলুতে লোকশান গুনতে হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৯০ টাকা।
কালাই এম ইশরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক আবু রায়হান জানান, গতবছর এ সময়ে হিমাগার থেকে বেশিরভাগ আলু বের হলেও এবছর এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার বস্তা আলু মজুদ আছে। আলুর বাজার দর কমে যাওয়ায় উপজেলার সকল হিমাগার মালিকপক্ষ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মাইকিং করা হয়েছে।
কালাই আরবি স্পেশালাইজড হিমাগারে মালিক প্রদীপ কুমার জানান, আমার হিমাগারে ২ লাখ ৬০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষিত ছিল। কিছু আলু বের হয়েছে। বাজারে দাম কম হওয়ায় হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম জানান, গত অর্থবছরে আলু আবাদ হয়েছিল ৪৩ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন। গতবছর দাম বেশি হওয়ায় চাষ বেশি হয়েছিল। এবছর এখন পর্যন্ত আলুর দাম উঠেনি।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, এ জেলায় এক লাখ মেট্রিক টনের উপরে এখনও আলু মজুদ রয়েছে । হিমাগার থেকে আলু খালাসের পরিমাণ তুলনামূলক কম। কারণ আলুর দাম অনেকটা কমে গেছে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।