এমএ মামুন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৩ পিএম
সাতক্ষীরার দেবহাটা বাজার বিক্রয়ের জন্য পানিফল সাজিয়ে রেখেছেন এক বিক্রেতা। প্রবা ফটো
দেবহাটার বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে পানিফল। আগাম চাষ করা এই ফল বিক্রি করে লাভের আশা করছেন কৃষক। অন্যান্য ফলের পাশাপাশি পানিফল বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করায় চাহিদাও বাড়ছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফলটি ছোট-বড় সবার পছন্দের।
ফলটির ইংরেজি নাম Water chestnut এবং উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Trapa bispinosa. এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। জলাশয় ও বিল-ঝিলে এ ফলটি জন্মে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, পানিফল চাষ শুরু হয় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং ফল সংগ্রহ করা হয় অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে। কচি অবস্থায় ফলটি লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ক হলে কালো রঙ ধারণ করে। ফলটির পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় ত্রিভুজাকৃতির নরম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ সুস্বাদু। পানিফল কাঁচা খাওয়া হয়, তবে সিদ্ধ
করেও খাওয়া যায়। কাঁচা পানিফল দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। ফলের শুকনো শাঁস রুটি করে খেলে এলার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগ উপশম হয়। উদরাময় ও তলপেটের ব্যথা উপশমে পানিফল খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
দেবহাটার সখিপুর গ্রামের চাষি আব্দুল গফফার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পানিফল চাষ করছি। প্রথমে মানুষের মাঝে তেমন সাড়া পাওয়া না গেলেও দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে।
আরেক চাষি শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর তিনি পাঁচ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পানিফলের চাষ শুরু করেছেন। শুরুতেই এই চাষ লাভের আশা দেখিয়েছে তাকে।
সখিপুর মোড় এলাকার খুচরা পানিফল বিক্রেতা আব্দুল গফুর জানান, তিনি কৃষকের কাছ থেকে এই ফল কেনেন ৪০ টাকা কেজি, আর বিক্রি করেন ৫০ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি পানিফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, চাষের মৌসুম আসার আগে তিনি অর্ধশতাধিক চাষির মাঝে অর্থ বিনিয়োগ করেন। ফলন আসার পরে বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদিত ফসল ক্রয় করেন। এভাবে ১০-১২ বছরের বেশি সময় তিনি পানিফল ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, চিটাগাং, সিলেট, রাজশাহী, বেনাপোল, যশোর, নাটোর, বগুড়া, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ফল রপ্তানি করেন এই ব্যবসায়ী।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী বলেন, চলতি বছর দেবহাটাতে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৫-২০ মণ ফলন পেয়েছেন কৃষক।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, কৃষি অধিদপ্তর থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। চাষাবাদে খরচ কম ও অল্প পরিশ্রমে বেশ লাভবান হওয়ায় প্রতিবছর আগ্রহ বেড়ে চলেছে পানিফল চাষিদের।