প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৫ ২০:২০ পিএম
বৃহস্পতিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত মিডিয়া ক্যাফে অনুষ্ঠানে অতিথিরা। প্রবা ফটো
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং দেশের কৃষিখাতকে টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এক মিডিয়া ক্যাফে অনুষ্ঠানে এই দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খানি ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রাণ)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান। কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে খানি মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরেন, যেখানে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব বাস্তবতার মাঝে বিস্তর ফারাক চিহ্নিত করা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, কৃষি দেশের সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান খাত হলেও এখানকার উৎপাদকদের জন্য কোনো নির্ধারিত মূল্য নীতি নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পণ্যের অস্থির বাজারমূল্য, উৎপাদন ব্যয় না ওঠা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাকে বক্তারা এই সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
প্রধান অতিথি ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, কৃষিখাতে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যানের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডেটা ম্যানিপুলেশন অনেকদিনের অভ্যাস হয়ে গেছে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি জানান, কৃষি পরিকল্পনার জন্য ৬টি হটস্পট চিহ্নিত করে ৯টি থিম্যাটিক এরিয়ার ভিত্তিতে ২৫ বছরের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুর রহমান জানান, সরকার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। ভারতের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য ব্যবস্থার আলোকে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৌশলগত পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য এ বছর ৩৭ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ধান-চালের দাম নির্ধারণে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের জন্য শস্য বীমা চালু, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, কৃষি মূল্য কমিশন গঠন শুধু কৃষকদের আত্মহত্যা রোধ করবে না, বরং তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, প্রাইস কমিশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে কমিশনে কৃষকদের সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় যুবকদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চরাঞ্চলেও সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মিহির কুমার রায়, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, খানি সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলর্মী এবং খানি সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদসহ আরও অনেকে।