প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪ ১৩:০৪ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
রাজকাঁকড়া। প্রবা ফটো
সাগর জলের রহস্যময় প্রাণী হর্সশু ক্র্যাব বা রাজকাঁকড়া। এর নীল রক্ত বহুমূল্যবান। এ রক্তের অসাধারণ ক্ষমতাবলে রাজকাঁকড়ারা যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের গুরুত্ব অপরিসীম।
অনিয়ন্ত্রিত আহরণের ফলে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির হুমকিতে থাকা এ প্রাণীটির এখনও প্রাচুর্যতা আছে বঙ্গোপসাগরে। তবে জেলে ও উপকূলের বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে মারা পড়ছে প্রাণীটি।
২০ জুন বিশ্বব্যাপী পঞ্চম আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস পালিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব এবং সমুদ্রবিষয়ক গবেষক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, অশ্বক্ষুরের মতো দেখতে উপবৃত্তাকার এ কাঁকড়াটি হলো হর্সশু ক্র্যাব বা রাজকাঁকড়া। তবে প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে এর বেশি মিল রয়েছে। এরা লিমুলিডি গোত্রের অন্তর্গত সামুদ্রিক সন্ধিপদি প্রাণী। এরা প্রধানত অগভীর সমুদ্র ও নরম বালি বা কাদা সমৃদ্ধ সমুদ্রতলে বাস করে। প্রজননের জন্য এদের ডাঙায় আসতে দেখা যায়। ভরা পূর্ণিমায় সৈকতে এদের আনাগোনা লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, এ কাঁকড়ার নীল রক্ত বহুমূল্যবান। এ রক্তের অসাধারণ ক্ষমতাবলে রাজকাঁকড়ারা যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। হর্সশু ক্র্যাব বা রাজকাঁকড়ার বিবর্তনীয় ইতিহাস, সামুদ্রিক উপকূলীয় পরিবেশ ও টেকসই বায়োমেডিক্যাল ব্যবহারে তাদের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বে রাজকাঁকড়া রক্ষা এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজকাঁকড়ার আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০১২ সালে আইইউসিএন, এসএসসি হর্সশু ক্র্যাব বিশেষজ্ঞ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সমুদ্রবিষয়ক গবেষক বলেন, ২০১৯ সালের জুনে চীনের গুয়াংজিতে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজার্ভেশন অব সোসাইটি (আইইউসিএস), এসএসসি হর্সশু ক্র্যাব স্পেশালিস্ট গ্রুপের উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ওই কর্মশালায় ১৪ দেশ ও অঞ্চলের রাজকাঁকাড়া বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বব্যপী রাজকাঁকড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘বেইবু উপসাগরীয় ঘোষণা’ স্বাক্ষর করেন। ওই ঘোষণাপত্রে রাজকাঁকড়া সংরক্ষণের নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর প্রয়োগ করা এবং রাজকাঁকড়া নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আহ্বান জানানো হয়। এতে রাজকাঁকড়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিবিড় গবেষণা, টেকসই ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার করা, তাদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল রক্ষা করা এবং রাজকাঁকড়া সংরক্ষণে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের প্রচার কার্যক্রম আরও প্রসারিত করার জন্য আইইউসিএস, এসএসসি হর্সশু ক্র্যাব স্পেশালিস্ট গ্রুপ প্রতি বছর ২০ জুনকে আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, ‘বেইবু উপসাগরীয় ঘোষণা’ অনুযায়ী ২০ জুন, ২০২০ সালে বিশ্বব্যপী প্রথম আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে সপ্তাহব্যপী রাজকাঁকড়ার ভৌগোলিক পরিসরজুড়ে সিম্পোজিয়াম, সেমিনার, ওয়েবিনার, পাবলিক টক, ভিডিও শো প্রদর্শনী, ওয়ার্কশপ এবং ইকো-ট্যুরের আয়োজন করা হয়। এ বছর বিশ্বব্যাপী ২০ জুন পঞ্চম আন্তর্জাতিক রাজকাঁকড়া দিবস পালিত হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনমি অনুবিভাগ বঙ্গোপসাগরের ৭৩৪ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ২৮ মে ‘নাফ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করেছে। এখানে এ রাজকাঁকড়াটি দেখা যায়।
এ ব্যাপারে ব্লু ইকোনমি অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর বলেন, এখানকার হর্সশু কাঁকড়া প্রায় বিলুপ্তির পর্যায়ে চলে গেছে। এটি দিয়ে মূল্যবান ওষুধ তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
মেরিল্যান্ড নেচারাল রিসোর্স ও উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, হর্সশু ক্র্যাব বা রাজ কাঁকড়ার আজ থেকে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ বছর আগেও পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল। অর্থাৎ ডাইনোসরের চেয়েও প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিল এই প্রাণীটি।