প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৫:২৫ পিএম
জিয়াউল রোশান ও সাইমন সাদিক।
কিশোরগঞ্জের ছেলে
সাইমন সাদিক। শৈশব-কৈশোর পুরোটাই কেটেছে সেখানে। নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত
‘জ্বি হুজুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর একই
নির্মাতার ‘পোড়া মন’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। ধীরে ধীরে এই নায়ক হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের
আস্থার প্রতীক। পেয়েছেন সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।
এদিকে এ প্রজন্মের
আলোচিত আরেক অভিনেতা জিয়াউল রোশান। ২০১৬ সালে সিনেমায় পা রাখেন তিনি। তার অভিষেকটা
ছিল রাজকীয়। তৎকালীন দেশের সবচেয়ে বড় ও সফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার
ব্যানারে ‘রক্ত’ সিনেমা দিয়ে হাজির হন তিনি ঢালিউডে। প্রথম সিনেমাতেই নায়িকা হিসেবেই
পেয়েছিলেন পরীমনিকে। যা তাকে আরও আলোচনায় রাখে। ছবিটি মুক্তির পর দেখা মেলে অ্যাকশনে
পরিপক্ক এক নায়কের। এরপর থেকে রোশান মানেই অ্যাকশন সিনেমা।
তবে আসছে ঈদে
রোশানকে আরেক নায়ক সাইমনের সঙ্গে দেখা যাবে রোমান্টিক একটি ছবিতে। ভালোবাসার ভিন্ন
আমেজের গল্পে নির্মিত এই সিনেমার নাম ‘মায়া : দ্য লাভ’।
ত্রিভূজ প্রেমের
গল্পে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন জসিম উদ্দিন জাকির। এতে রোশান ও সাইমনের বিপরীতে দেখা
যাবে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলীকে। ছবিতে বুবলীকে পেতে প্রতিযোগিতায়
লিপ্ত হবেন দুই নায়ক। তবে এখানেই শেষ নয়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে আনিসুর রহমান মিলনকেও।
তিনিও বুবলীর ভালোবাসার দাবি নিয়ে হাজির হবেন মায়া সিনেমায়।
ছবিটির মুক্তি
সামনে রেখে এরই মধ্যে সিনেমাটির প্রচারণা শুরু হয়েছে। গানের পর এলো সিনেমাটির ট্রেলার।
গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রেলারটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সিনেমাটি
দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এর প্রযোজক আলীনুর আশিক ভূঁইয়া। দেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে
ছিলেন না আনিসুর রহমান মিলন। তবে সেখানে উপস্থিত দুই নায়ক সাইমন ও রোশান মেতেছিলেন
আড্ডায়। তারা কথা বলেন তাদের আসন্ন সিনেমা নিয়ে, সিনেমার বিশেষত্ব নিয়ে।
ঈদে হাফ ডজনেরও
বেশি সিনেমা মুক্তির মিছিলে আছে। তার ভিড়ে মায়া কতটা সাফল্য পাবে, জানতে চাইলে সাইমন
বলেন, ‘প্রতিটি ছবির গল্প আলাদা, শিল্পীও প্রায় আলাদা, মেসেজ আলাদা, বিনোদনের উপকরণগুলোও
আলাদা। সেজন্য আমি তো মনে করি মায়া দর্শকের ভালো লাগবে। প্রতিটি ছবিই দর্শক যেন হলে
গিয়ে দেখেন সেটা আমার প্রত্যাশা।’
রোশানও আশাবাদী
তার সিনেমা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এত ছবির মুক্তির বিষয়টিকে আমি উৎসব হিসেবে দেখছি।
আমার বিশ্বাস, সবগুলো ছবিই ভালো করবে। আর মায়া তার গল্প ও নিজস্বতা নিয়ে তার মতো সাফল্য
পাবে। এ পর্যন্ত যতগুলো সিনেমাতে কাজ করেছি, সবগুলোই অ্যাকশন ঘরানার। কিন্তু এটি পুরোপুরি
প্রেমের। একটা পর্যায়ে ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয় সেই প্রেম। বলা যায়, আমার জীবনে এটি একটি
ভিন্নতা যোগ করবে।’
ঈদে শাকিব খানের
সিনেমাও থাকছে। তার সঙ্গে সিনেমা মুক্তি কি বাড়তি চাপ বলে মনে হচ্ছে? প্রশ্ন শুনে মিষ্টি
হেসে রোশান বলেন, ‘শাকিব ভাই আমাদের গর্ব। তার সঙ্গে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে এটাই আনন্দ।
চাপ নেওয়ার কিছু নেই। উনার ছবি নিয়ে সবাই কিছুটা নির্ভার থাকে। আর বাকিরা আমরা সবাই
একটা লড়াই করে যাচ্ছি। সেখান থেকে উনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক উপস্থিতি
উপভোগ করছি। তবে এবারের ঈদে বেশ কিছু ভালো ছবি থাকবে। সবার সঙ্গেই সুস্থ ও শৈল্পিক
প্রতিযোগিতা হোক মায়ার।’
সাইমন বলেন,
‘‘শাকিব খান আমাদের কাছে একটা বিশেষ নাম। উনার সিনেমা মানেই হাউসফুল। ঈদে গেল বছর উনার
সঙ্গে সিনেমা মুক্তির অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। তাই এটা কোনো চাপ বলে মনে হচ্ছে না। আমি
উপভোগ করছি, উৎসবে আমরা অনেকেই একসঙ্গে থাকতে পারছি দর্শকের সামনে। শাকিব ভাইয়ের সিনেমা
আমি নিজেও দেখি। অন্য যেকোনো সিনেমাই আমি দেখার চেষ্টা করি হলে গিয়ে। দর্শকদেরও বলব,
আপনার প্রিয় তারকার ছবি হলে গিয়ে দেখুন। তারপর আমাদের ‘মায়া : দ্য লাভ’ সিনেমাটিও দেখুন।
ভালো-মন্দ জানান।’’
ছবিতে নায়িকা
একজন, কিন্তু নায়ক তিনজন। শেষ পর্যন্ত বাসরটা কার ভাগ্যে জুটেছেÑ মজার ছলে জানতে চাইলে
দুই নায়কই হেসে গড়াগড়ি খান। সাইমন বলেন, ‘এটা বলা যাবে না এখন। এটাই টুইস্ট। তিন-তিনজন
নায়ক বুবলীকে নিয়ে যে লড়াই চালিয়েছে, সেখানে কে জয়ী সেটা দেখতে হলে সিনেমাটা দেখতে
হবে।’
রোশান রহস্য করে
বলেন, ‘খেলা তো অনেকেই খেলে। কিন্তু যে গোল দেয় সেই হচ্ছে বেস্ট। মায়াতে কে গোল দিল
দেখতে হলে আসুন।’
আজকাল সাধারণত
একজন নায়ক আরেকজন নায়কের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চান না। সেখানে আপনারা দুজন নায়কের
সঙ্গে কাজ করেছেন মায়াতে। এর পেছনে আসলে শক্তিটা কী ছিল? ‘গল্প এবং আমাদের একে অন্যের
প্রতি বন্ডিং। আমি সব সময়ই এ ধরনের সিনেমা করতে চেয়েছি। এতে করে দর্শক একদিকে অনেক
তারকা দেখার সুযোগ পান, আর অন্যদিকে সিনেমার সাফল্যের জন্য প্রচেষ্টাটাও বহুমুখী হয়।
একজন সাইমন যেটা করতে পারবে সেখানে আরও দুজন যোগ হলে সেটার সাফল্য বেশি হবে। সেটা ভেবেই
আমি সব সময়ই একাধিক নায়কের সঙ্গে সিনেমায় আগ্রহী ছিলাম। আর মায়াতে আমি রোশান ও মিলন
ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। দুজনেই আমার পছন্দের ভাই। বেশ মজা নিয়ে কাজ করেছি। মনের জটিল
ভাবনা আর নানা হিসাব-নিকাশ দূরে রেখে কাজটা এনজয় করলেই সব সহজ হয়ে যায়।’- জবাব দিলেন
সাইমন।
রোশান বললেন,
‘আমি সাইমন ভাইয়ের সঙ্গে একমত। আমরা একই পরিবারের সদস্য। আমাদের চিন্তা হওয়া উচিত সিনেমার
কিসে ভালো হবে সে নিয়ে। আমি সেই ভাবনা থেকেই দুই নায়কের সঙ্গে কাজটি করেছি।’
তবে ঈদের সিনেমা
নিয়ে স্বস্তির পাশাপাশি কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশও করলেন রোশান। এক ঈদে একসঙ্গে এতগুলো
ছবি মুক্তি দেওয়ার পক্ষে না তিনি। রোশানের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়, এক ঈদে একজন মানুষের
সর্বোচ্চ চারটি সিনেমা দেখা সম্ভব। সেখানে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে ১২টি। এই ১২টি ছবির
মধ্যে আমারও দুই ছবি আছে। যা আমি চাইনি। অনেকেই ঈর্ষা বা জোর করে সিনেমা মুক্তি দিচ্ছে,
যা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য খারাপ। ফলে একজন প্রযোজক তার লগ্নি উঠিয়ে আনতে পারবে না।
দিন শেষে ক্ষতিটা আমাদেরই।’
‘মায়া’ সিনেমার
বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন কাজী হায়াৎ, বড়দা মিঠু, রেবেকা রউফ, চিকন আলী,
রাশেদা চৌধুরী, শম্পা নিজাম, সোহেল রশিদ, শিবলী, অরিন, বাদল, ববি, জ্যাকি আলমগীর, সীমান্ত,
ইভা, আকলিমা আঁখি প্রমুখ।