প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:০৮ এএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৫৬ এএম
মঞ্চ, টিভি ও বড়পর্দার কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পরপারে পাড়ি জমান তিনি। আজ এ কালজয়ী অভিনেতাকে হারানোর এক যুগ পূর্ণ হলো।
হুমায়ুন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এ টি এম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ১৯৬৫ সালে বাবার চাকরির সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
মাদারীপুরেই নাট্যজগতে প্রবেশ করেন হুমায়ুন ফরীদি। তার নাট্যাঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। তখন নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের ত্রিরত্ন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বপ্রথম দর্শকের সামনে হাজির হন। এরপর এ সংগঠনের সদস্য হয়ে টাকা আনা পাই, দায়ী কে, সমাপ্তি, অবিচারসহ ছয়টি মঞ্চনাটকে অংশ নেন।
অবশেষে ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর বাবার চাকরির সুবাদে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দেন তিনিও। যুদ্ধ শেষে অর্থনীতি নিয়ে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
সেখানে পড়ার সময় সেলিম আল দীনের সাহচর্যে আসেন। সেলিম আল দীনের শকুন্তলা নাটকের তক্ষক চরিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৮২ সালে নীল নকশার সন্ধানে নাটকে অভিনয় করেন। এটি ছিল তার প্রথম টেলিভিশন নাটক।
এরপর একে একে অভিনয় করেন ভাঙনের শব্দ শোনা যায়, সংশপ্তক, দুই ভাই, শীতের পাখি এবং কোথাও কেউ নেই-এর মতো দর্শকপ্রিয় নাটকে। হুলিয়া, জয়যাত্রা, শ্যামলছায়া, একাত্তরের যিশু, আনন্দ অশ্রুসহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন মরণোত্তর একুশে পদক পাওয়া এ অভিনেতা।