প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:১৩ পিএম
অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের ৫০ বছর উদযাপনের সূচনালগ্নে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ‘সদরুল পাশা স্মারক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এবার সম্মাননা পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত নাট্যজন মঞ্চসারথী আতাউর রহমান।
তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন ও বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট সংবাদ-ব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক।
সদরুল পাশা ছিলেন চট্টগ্রামের বনেদী পরিবারের সন্তান। তার পিতা মরহুম ডাক্তার বিএম ফয়জুর রহমান ছিলেন ১৯৭০ সালের গণপরিষদ সদস্য এবং ১৯৭২ সালের সংসদ সদস্য। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের এক নম্বর সেক্টরের ডেপুটি সেক্টর কমান্ডার এবং হরিণা ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন। আজন্ম আওয়ামী লীগের এ মহান মুক্তিযোদ্ধার অসীম অবদানের কথা এখনও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে সুনামের সঙ্গে। সদরুল পাশার মা ছিলেন যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশের নারী পুনর্বাসনের জন্য নিবেদিত সমাজকর্মী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য।
অরিন্দমের সভাপতি নাট্যজন আকবর রেজার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন সাইফুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত। প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব সদরুল পাশার স্মৃতিচারণ করেন তার ছোট ভাই বিশিষ্ট গীতিকবি আসিফ ইকবাল। মানপত্র পাঠ করেন অরিন্দম সদস্য কাজল সেন।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মঞ্চসারথী আতাউর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম আমার প্রথম বাড়ি। আমি সাংঘাতিকভাবে চট্টগ্রামের কাছে ঋণী। এখানে যা শিখেছি বাকি জীবনে তা আর কোথাও শিখিনি। এখানে পুরস্কারটা নিতে এসেছি কারণ এখানে হৃদয়ের স্পর্শ আছে।’ তিনি বলেন, ‘নাটক জীবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে জানে। সদরুল পাশার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, বলা চলে আত্মীয়তার বন্ধন। চট্টগ্রামে থেকে আমি মানুষ হতে পেরেছি কি না জানি না, তবে অমানুষ হইনি। আমার আত্মজীবনীতে চট্টগ্রামের অবদানের কথা থাকে সর্বাগ্রে এবং সবচেয়ে বেশি।’ নতুন নাট্যনির্মাতা, অভিনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তির আশা না করে মনের আনন্দে কাজ করার মাঝেই প্রকৃত আনন্দ লুকায়িত।’
নাট্যজন শিশির দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাস লিখতে গিয়ে চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে লেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অরিন্দমের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আমরা তরুণ প্রযোজকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করব। ইচ্ছে আছে ৫০ বছর উপলক্ষে দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট নাট্যকর্মীকে নিয়ে এসে সম্মাননা জানানোর। অরিন্দমের পুরোনো নাটকগুলোর পুনঃমঞ্চায়নের ব্যবস্থা করাসহ নানাবিধ পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মধুলিকা মণ্ডল।