মহিউদ্দিন মাহি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৩ ১২:৪২ পিএম
ভার্সেটাইল অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় সমানভাবে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ ও ২০১৬ সালের ‘অজ্ঞাতনামা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। সম্প্রতি বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি সিনেমার অভিনয় দিয়ে। গেল কোরবানির ঈদের তিনটি সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন এই অভিনেতা। এক সঙ্গে এক ঈদের তিন সিনেমায় তিনি প্রথমবার অভিনয় করলেন। এ অভিজ্ঞতা, অভিনয়ের প্রশংসা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। লিখেছেন মহিউদ্দিন মাহি...
আগে জানতে চাই ঈদ কেমন কাটল আপনার?
দারুণ কেটেছে। ঈদের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন ঈদের মেজাজে আছি। আর এটার কারণ সিনেমা। ঈদের তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছি আমি। প্রিয়তমা, সুড়ঙ্গ, লাল শাড়ি। তিনটি চরিত্র তিন রকম। খুব ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। যার ফলে মনে হচ্ছে ঈদটা এখনও চলছে।
প্রথমবার ঈদের তিনটি সিনেমায় আপনি, অনুভূতি কেমন?
অসাধারণ অনুভূতি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এর আগে এক সঙ্গে ঈদের তিনটি সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ হয়নি। এবারই প্রথম এমন একটি অভিজ্ঞতা হলো।
ভালো লাগাটা অনেক বেশি এ জন্য যে, আলাদা করে তিনটি চরিত্রই দর্শকদের ভালোবাসা পাচ্ছে। সবাই খুব প্রশংসা করছেন। হলে হলে ঘুরে পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে সিনেমা দেখলাম। গণমাধ্যমের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। এখনও হচ্ছি। সবকিছু মিলিয়ে আমার জন্য চমৎকার একটি ঈদ ছিল এবার।
তিনটি সিনেমায় তিন ধরনের উপস্থাপনা ছিল আপনার। প্রায় কাছাকাছি সময়েই তিনটি চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন?
আমি একজন অভিনেতা। দীর্ঘসময় ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। বলতে গেলে মোটামুটি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা আমার ইতোমধ্যেই হয়েছে। শুধু নির্মাতার আদেশ অনুযায়ী নিজেকে ঠিকঠাক উপস্থাপনা করার জন্য মানসিক প্রস্তুতিটা আমি নিয়েছি। এ ছাড়া সংলাপগুলো নিয়ে আমি বেশ সময় নিয়ে কাজ করেছি। সেক্ষেত্রে আমার কাছে তিনটি সিনেমার স্ক্রিপ্ট আসার পর আমি সংলাপগুলো একদম মুখস্থ করে ফেলি। তারপর নিজের মস্তিষ্ক স্থির করে, কীভাবে সংলাপগুলো ডেলিভারি দেব সেই চেষ্টা করি। নির্মাতা যতক্ষণ সন্তুষ্ট না হন ততক্ষণ চেষ্টা করি।
আপনার কাছে তিনটি চরিত্রের কোনটিকে বেশি ভালো লেগেছে?
সেই উত্তর আসলে দর্শক দিতে পারবেন। আমার কাছে তিনটি চরিত্রই ভালো। কারণ চরিত্র পছন্দ না হলে আমি কাজ করি না। আলাদা করে তিনটি চরিত্রই আমাকে প্রশংসিত করেছে। আমি তা উপভোগ করছি।
তিন সিনেমায় তিনজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন। যাদের তিনজনই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে বলে মনে করেন?
আমি তো মনে করি প্রতিটি কাজই চ্যালেঞ্জ। কার সঙ্গে কাজ করছি সেটার চেয়ে আসলে কী কাজ করছি, কেন করছি সেটাকে বেশি গুরুত্ব দিই আমি। নিজের চরিত্রটি পছন্দ হলে তবেই কেবল আমি কাজ করে থাকি। সে জায়গা থেকে চ্যালেঞ্জটা নিজের সঙ্গে ছিল। এক সময়ে তিনটি চরিত্র দর্শকের সামনে এসেছে নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছি বলে মনে হয়েছে। আর যে তিনজনের সঙ্গে কাজ করেছি বলছেন তাদের সঙ্গে এর আগেও আমি অভিনয় করেছি। শাকিব খান, আফরান নিশো ও সাইমন সাদিক। ওরা আমার ছোটভাইয়ের মতো। তিনজনই ভালো শিল্পী। তিনজনই নিজেকে যার যার অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ওদের সঙ্গে কাজ করার আনন্দ আছে। সেটা পেয়েছি। তারা আমাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছে। আমিও স্নেহ-ভালোবাসার কমতি রাখিনি। তাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নয়, আনন্দ নিয়ে অভিনয় করেছি।
আপনার তিন সিনেমার নায়কদের মধ্যে কার কোন গুণগুলো আপনাকে ভাবায়?
আমি কোনো তুলনায় যেতে চাই না। সেটা উচিতও হবে না। কাউকে এগিয়ে রাখার মতো সিদ্ধান্তেও আমি যাব না। তাদের কাঁধে ভর করে ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে সেটা আমি চাই। শাকিব, সাইমন ও নিশো তিনজনের স্টাইল তিন রকম। তাদের দর্শকও তিন ধরনের। তারা কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী বলে আমি মনে করি না। তিনজনের মধ্যেই অভিনয়ের ক্ষুধা দেখেছি। শাকিব খান জনপ্রিয়তার চূড়ায় বসেও ভালো একটা কাজের জন্য মুখিয়ে থাকে, নিজেকে উজাড় করে দেয়। নিশোও তাই। ওর ভালো কাজের প্যাসনটা দারুণ। সাইমন খুব আন্তরিক একজন অভিনেতা। সেটে নির্মাতার নির্দেশটাকে খুব ফলো করে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে ঢুকে যাওয়ার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। এটাই অভিনেতার শক্তি। আমি তাদের চিনেছি আমার দর্শনে। সেখান থেকে বলতে পারি, ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে তিনজনকে দিয়েই হলে দর্শক টানা সম্ভব।
সিনেমায় আপনাকে নিয়মিত দেখা যাবে?
এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। কারণ ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের পর অনেকেই মনে করেছিলেন আমি সিনেমায় নিয়মিত হব। কিন্তু হতে পারিনি। এর কারণ হচ্ছে সিনেমার গল্প। ভালো গল্পের অভাবে সিনেমায় নিয়মিত হতে পারিনি। সামনে যদি পছন্দ অনুযায়ী গল্প পাই, তাহলে অবশ্যই অভিনয় করব। অভিনয় আমার পেশা। কিন্তু সব গল্পে তো আর অভিনয় করা সম্ভব নয়। দুর্বল গল্পে ভালো চরিত্র করেও আরাম নেই। যেমন এবারের ঈদের তিনটি সিনেমা দেখুন, তিনটিরই গল্প দারুণ। গল্পের জন্য প্রশংসা পাচ্ছে। এখানে সাফল্যের পেছনে নায়ক বা নায়িকা মুখ্য হয়ে আসেনি। গল্প এসেছে, ভালো নির্মাণ আলোচনায় এসেছে, ভালো গান আলোচনায় এসেছে, শিল্পীদের ভালো অভিনয় আলোচনায় এসেছে। যার ফলে সাফল্য আসছে। তাই এমন মানের সিনেমা হলেই অভিনয় করব। সেটা কোন ঘরানার বা কোন আমেজের, তা বিবেচ্য নয়।
কোরবানির ঈদে হলে দর্শকদের জোয়ার দেখে আপনার কি মনে হয় দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে?
দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এ বছরের ঈদে নয়, আমার ধারণা গত বছরের ঈদ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। যার শুরু হয়েছিল ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমার হাত ধরে। এবার সেই ধারাবাহিকতা নির্মাতা ও অভিনেতারা ধরে রেখেছেন। সবার প্রচেষ্টাতেই হলে দর্শক ফিরেছে বলে আমি মনে করি। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি উৎসব যথেষ্ট নয়, বছরের ১২টি মাস নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে। সারা বছর দর্শক থাকতে হবে হলে। সে ক্ষেত্রে কনটেন্টে মনোযোগী হতে হবে সবার। গবেষণা করতে হবে দর্শকদের রুচি নিয়ে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি গল্পনির্ভর সিনেমা দিয়ে দর্শক টানতে হবে। যখন সব ধরনের সিনেমা সফল হবে, তখনই একটা ইন্ডাস্ট্রি মজবুত বলে ধরে নেওয়া যায়।
প্রযোজক বা নির্মাতা হিসেবে আপনাকে কি আগামীতে দেখতে পাব?
নাহ্। অভিনেতা হিসেবেই ভালো আছি। অভিনয়টাই উপভোগ করতে চাই।