প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ১৫:৫৯ পিএম
আমার কাছে হুমায়ুন ফরীদি মানে অনেক কিছু। তার সঙ্গে যাদের সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে, শুধুই তারাই বলতে পারবে ফরীদি আসলে কী! তার বাস্তব চরিত্রে এমন একটি ম্যাজিক ছিল, আমাদের সবার মন মুগ্ধ হয়ে থাকত। তার কাছে থাকলেই আনন্দিত থাকতাম সবাই। আমার সঙ্গে ফরীদির অনেক অনেক স্মৃতি আছে। যেগুলো মনে পড়লে এখনও একা একা আমি মুচকি হাসি।
এর পর আমার চোখের কোণে জল চলে আসে। সব স্মৃতি বাদ দিয়ে একটি স্মৃতির কথা বলি। সেটি হলো ওর দায়িত্ববোধ। আমি আর ফরীদি একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম তৌকীর আহমেদের। চলচ্চিত্রটির নাম ‘জয়যাত্রা’। পর্দার বাইরে ফরীদি যে এতটা দায়িত্ববান একজন মানুষ, সেটি সেই সিনেমার শুটিংয়ে টের পেয়েছিলাম।
‘জয়যাত্রা’ সিনেমার শুটিংয়ে আমরা তখন রংপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করছিলাম। শুট শেষ হতে হতে সন্ধ্যা প্রায়। এর মধ্যেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। আমরা সবাই আটকে পড়ি। তখন আমার শরীরে ভীষণ জ্বর। আমার দ্রুত বাংলোতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাটির রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে সাহস পাচ্ছিল না কেউ। প্রতিকূল এই অবস্থার মধ্যে ফরীদি শুটিং ইউনিটকে বলে তাঁবুর ব্যবস্থা করতে। তারপর আমার জন্য আর ফরীদির জন্য তৌকীর একটি তাঁবুর ব্যবস্থা করে দেয়। সে রাতে সারা রাত বৃষ্টি হয়। আমি কোনোরকম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙে তখন দেখি ফরীদির পায়ের ওপর আমি শুয়ে আছি আর ও হেলান দিয়ে কোনোরকম রাত কাটিয়েছে। ঘুম থেকে উঠে আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। শরীরটা সুস্থ বোধ করলাম। টের পেলাম রাতভর ফরীদি আমার যত্ন নিয়েছে। ওকে ডেকে তুলে দুজন মিলে নাশতা করে আবার শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হই। কিন্তু ঘটনাটি চিরকালের মতো আমার হৃদয়ে লেখা হয়ে গেছে।
তার সম্পর্কে শুধু এইটুকই বলতে চাই, ফরীদির মতো এমন হৃদয় নিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে এর আগে কেউ জন্মেছিল বলে আমার মনে পড়ে না। ভবিষ্যতেও তার মতো কেউ জন্মাবে কি না আমি জানি না। অভিনয়গুণ, বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ এই জায়গাগুলোতে হুমায়ুন ফরীদি সবার থেকে আলাদা।