প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:৩৮ পিএম
উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়ক ভূপেন হাজারিকা। আজ তার জন্মদিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্ত-অনুরাগীরা তাকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
এ ছাড়াও 'ভারতরত্ন’ ভূপেন হাজারিকার জন্মবার্ষিকীতে গুগল বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছে। গুগল ডুডলে দেখা গেল হারমোনিয়াম বাজাচ্ছেন ভূপেন হাজারিকা। মুম্বাইনিবাসী শিল্পী ঋতুজা মালির তৈরি এই ইলাস্ট্রেশন মন কাড়ছে সবার।
ভূপেন হাজারিকার জন্ম আসামের সাদিয়াতে ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ৯৬ বছর। বাংলা, অসমিয়া এবং হিন্দি ভাষার জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন ভূপেন হাজারিকা। তার কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় মানবতাবাদী সংগীত মন ছুঁয়ে গেছে সংগীতপ্রেমীদের।
একদিকে কবি, অন্যদিকে গায়ক, সংগীত পরিচালক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ভূপেন হাজারিকার কর্মজগতের ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই কিংবদন্তি শিল্পী অসমিয়া লোকগানকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন নিজ দক্ষতায়।
শৈশবেই ভূপেন স্থানীয় বরগীত, গোয়ালপাড়ার গান, চা–মজদুরের গান, বিহুগীতসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন ও প্রভাবিত হন। পরবর্তীকালে অসমিয়া গীতিকার জ্যোতিপ্রসাদের নজরে পড়েন তিনি। হিন্দুস্তানি ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত ও উচ্চাঙ্গ নৃত্যের ওস্তাদ বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার হাত ধরেই এরপর তার পথচলা। মাত্র ১০ বছর বয়সে শুরু হয়ে যায় তার মিউজিক্যাল ক্যারিয়ার।
এরপর যখন ভূপেন হাজারিকার বয়স ১২, তিনি দুটি ছবির গান লেখেন এবং রেকর্ড করেন। আস্তে আস্তে ভূপেন হাজারিকা অজস্র গান কম্পোজ করতে শুরু করেন। গানের মাধ্যমে গল্প বলার এক অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার। ভূপেন হাজারিকার গান বলত আনন্দ, দুঃখ, বিরহ-মিলন, প্রেম, একাকিত্বর মতো আবেগের কথা।
শুধু সংগীত সাধনাই করেননি এই শিল্পী, পড়শোনাতেও ছিলেন তুখোড়। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন, এরপর মার্কিন মুলুকে গিয়ে ১৯৫২ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাস কমিউনিকেশনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
পড়শোনা শেষ করে ফিরে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন অধ্যাপনার কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতায় যান এবং ফের সংগীত পরিচালনার কাজে হাত দেন। পাশাপাশি আইপিটিএর (ভারতীয় গণনাট্য সংঘ) সক্রিয় কর্মী ও নেতা হিসেবে গণনাট্যের কাজ চালিয়ে যান।
বর্ণময় ক্যারিয়ারে বহু স্বীকৃতি এবং সম্মান পেয়েছেন ভূপেন হাজারিকা। তার ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পুরস্কার, সংগীত নাটক আকাদেমি অ্যাওয়ার্ড, পদ্মশ্রী (১৯৭৭), দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৯২), পদ্মভূষণ (২০০১)-এর মতো পুরস্কার। তাকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ (২০১১) এবং ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন (২০১৯) দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মাল্টি-অর্গ্যান ফেইলিউরের কারণে মুম্বাইয়ে মৃত্যু হয় এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর। আসামে তার শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
প্রবা/এলএ/জেআই