প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম
একটা প্রজন্মের কাছে ‘হ্যারি পটার’ সিরিজটি বিশাল আবেগের নাম। জে কে রাউলিংয়ের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি এখনও অনেককে স্মৃতিকাতর করে তোলে। ২০০৭ সালে সাত পর্বের সিরিজটির সর্বশেষ কিস্তি প্রকাশ পায়। এতে হ্যারি পটার, হারমাইনি গ্রেঞ্জার ও রন উইজলির অভিনয় ছিল ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু সেই সিরিজটির পর আর একসঙ্গে দেখা যায়নি তাদের।
এমা ওয়াটসন এরপর পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করলেও, বাকিদের খুব বেশি সিনে পর্দায় দেখা যায়নি। এবার শোনা যাচ্ছে, এমার সঙ্গে একই পর্দায় ফিরছেন ‘হ্যারি পটার’ সিনেমার অভিনয়শিল্পী ডেনিয়েল র্যাডক্লিপ ও রুপার্ট গ্রিন্ট।
২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের মঞ্চে ‘কার্সড চাইল্ড’ শিরোনামের একটি নাটক বেশ আলোড়ন তোলে। তখন থেকে এটি যেন সিনে পর্দায় তুলে ধরা হয়, সে জন্য অনেক সিনেপ্রমী ভক্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করেছিল। যুক্তরাজ্যের পত্রিকা দ্য সান সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রুস এ নাটকের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। নাটকটির জনপ্রিয়তা তাদের এই প্রজেক্টটি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।
এদিকে পত্রিকাটি আরও তুলে ধরেছে, ‘বর্তমানে ফ্যান্টাস্টিক বিটস ফ্রেঞ্জাইজির সিনেমার কারণে ওয়ার্নার ব্রুসকে বেশ ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তবে তাদের পরিকল্পনায় আছে হ্যারি পটারের গল্প যেখান থেকে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই কার্সড চাইল্ডের কাজ শুরু করার। এর জন্য এখন স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ শুরু হয়েছে। এখনও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত হতে পারেনি, কয়টি পর্বে সিরিজটি সাজানো হবে।’
ওয়ার্নার ব্রুসের তরফ থেকে একজন জানান, ‘সবকিছু একেবারে প্রাথমিকভাবে আছে। ইতোমধ্যে ডেনিয়েল র্যাডক্লিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এমা ওয়াটসন ও রন উইজলিকেও এই প্রকল্পে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে তাদের তিনজনকে আবারও এক পর্দায় দেখার সুযোগ মিলবে।’
প্রসঙ্গত, ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের জন্য দুনিয়াজোড়া খ্যাতি এমা ওয়াটসনের। মাত্র ৯ বছর বয়সে বিশ্ব বিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের হারমাইনি গ্রেঞ্জার হিসেবে অভিনয় সফর শুরু করেছিলেন এই হলি সুন্দরী। দেখতে দেখতে ২৩ বছর কেটেছে। ৩২ বছর বয়সি এই নায়িকার অভিনয়ের ক্যারিয়ার গ্রাফ রীতিমতো তাক লাগায়।
হ্যারি পটারের বাইরেও তার উল্লেখযোগ্য বেশকিছু কাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে অভিনীত নোরা চরিত্রটি ছিল বেশ আলোচিত। এই ছবিতে বেশ খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল এমাকে। সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন তিনি।
ড্যারেন অ্যারেনফস্কি পরিচালিত সিনেমাটিতে এমাকে নোরার চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। এতে অভিনয় করতে গিয়ে তাকে অভিনয়-জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘একটি গুহায় ছবির শুটিং করতে হয়েছিল। প্রচণ্ড গরমে তার প্রচণ্ড পিপাসা পেয়েছিল। কিন্তু নির্মাতার চাওয়ামতো শুটিং চালিয়ে যেত হচ্ছিল সবাইকে এমন পরিস্থিতিতে হুট করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এমা। এই ঘটনাকে নিজের অভিনয়-জীবনের সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি হিসেবে দেখেন এ অভিনেত্রী।