প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৩২ পিএম
বাবা তামিল সিনেমার নামি পরিচালক ও প্রযোজক এসএ চন্দ্রশেখর। মা শোভা চন্দ্রশেখরও শোবিজের মানুষ। একজন স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী, লেখক ও প্রযোজক। এমন দম্পতির সন্তান হিসেবে সিনেমায় পথচলা শুরু করেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ ভারতের সিনেমার ‘থালাপতি’। তামিল থালাপতি শব্দের বাংলা নেতা। অর্থাৎ বিজয়কে ভাবা হয় দক্ষিণী সিনেমার নেতা।
গত এক দশকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের সিনেমাগুলো বেশ পোক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষার সেসব সিনেমার গল্প আর নির্মাণশৈলী বাজিমাত করছে একের পর এক। এমন নয় যে অতীতে এসব ইন্ডাস্ট্রি সফল ছিল না। তবে আগে এখানকার সিনেমার জনপ্রিয়তা ও বাজার ছিল দক্ষিণ ভারতেই। এখন পুরো ভারত, দক্ষিণ এশিয়া এমনকি অন্যান্য দেশেও উল্লেখযোগ্য পরিচিতি লাভ করেছে। দক্ষিণ ভারতের সিনেমার এ উত্থান যাদের হাত ধরে, যেসব তারকা নিজেদের ছড়িয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, তাদের মধ্যে একজন বিজয়।
গেল বছর তার ‘বিস্ট’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। সে সিনেমা ঘরে তুলেছিল ২৫০ কোটি রুপির বেশি। তবে অভিনেতার ক্যারিয়ারে সেরা আয়ের সিনেমাটি এখন ‘ভারিসু’। গেল ১১ জানুয়ারি ভারতজুড়ে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে চলেছে সিনেমাটি। তামিল ভাষার ‘ভারিসু’ শব্দের বাংলা অর্থ সেরা বা অসাধারণ। সিনেমার নাম তার যথার্থতা বজায় রাখল বক্স অফিসে। আর বিজয়ও প্রথমবারের মতো জয় করে নিলেন ৩০০ কোটি রুপি আয়ের ক্লাবে নাম লেখানোর সৌভাগ্য।
দক্ষিণ ভারতের আরেক সুপারস্টার অজিথ কুমারের ‘থুনিভু’ সিনেমার সঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল ভারিসু। তাই শুরুতেই ছিল কঠিন লড়াইয়ের হাতছানি। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন থালাপতি বিজয়।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, পারিবারিক বিনোদনভিত্তিক গল্পের সিনেমা ভারিসু ৩০০ কোটি রুপি আয় ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ আপডেট অনুসারে, ভারিসু বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ৩০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করেছে। ভারতে সিনেমাটি এখন পর্যন্ত ২১০.১৫ কোটি রুপি উপার্জন করেছে। বিদেশে এটি আয় করেছে ৯০ কোটি। সামগ্রিকভাবে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে মোট ৩০০.১৫ কোটি টাকা।
এ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন বিজয়। পরিবারের বাবার চরিত্রে রয়েছেন শরৎকুমার। বিজয়, শ্যাম ও শ্রীকান্ত তার তিন ছেলে। সুখী ওই পরিবারটিতে দ্বন্দ্ব তখন আসে যখন শরৎকুমারের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশ রাজ পুরো পরিবারকে সরিয়ে দিতে চায় এবং ধ্বংস করে দিতে চায় তাদের ব্যবসা। পরিবারকে বাঁচাতে প্রকাশ রাজের সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন বিজয়। সিনেমায় বিজয়ের মুখের ‘ক্ষমতা সিংহাসনে থাকে না স্যার। যিনি সিংহাসনে বসেন, তিনিই ক্ষমতা চালান’- সংলাপটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে।
বামশি পৈদিপল্লী পরিচালিত ভারিসুতে থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে রাশমিকা মান্দানাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পার্শ্বচরিত্রে আছেন প্রকাশ রাজ, প্রভু, শরৎকুমার, শাম, খুশবু, সংগীতা ও যোগী বাবুকে।
এদিকে থালাপতি বিজয় অভিনীত লোকেশ কানাগরাজ পরিচালিত ‘লিও’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।