প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:২১ পিএম
কিছুদিন আগে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের রূপে যখন চঞ্চল চৌধুরীর লুক প্রকাশ করা হয়, মিডিয়া অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম হয়। এমন চরিত্র অলংকরণের জন্য বেশ প্রশংসিত হন এই অভিনেতা।
এদিকে সবাই জেনে গেছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত ‘পদাতিক’ সিনেমায় অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী। ছবিতে উঠে আসবে মৃণাল সেনের জীবনের নানান ঘটনা। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ছবির দৃশ্যধারণ। শুটিংয়ের বেশ কিছু স্থিরচিত্র ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।
মৃণালরূপে চঞ্চলের চারটি ছবি পোস্ট করেছেন তার বন্ধু অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। একটিতে বৃদ্ধ মৃণালের সাজে সেলফি তুলছেন, দুটিতে সিগারেট ফুঁকছেন, আরেকটিতে ভাবুক চাউনিতে দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তায়।
ছবিগুলো প্রকাশ করে শাহনাজ খুশি বলেন, ‘তুই আর কী কী অনবদ্য অভিনয়ে, গেটআপে চমকে দিবি, সেই ভয়ে ভীত থাকি বন্ধু! তুই আমাদের অভিনয় জগতের এক অন্য অহংকার, অন্য ভালোবাসা। অপেক্ষায় আলোড়িত হচ্ছি রোজ, কবে দেখব তোর এবারের চমক! তোর অবিরাম সাফল্য কামনা করি।’
শুধু শাহনাজ খুশি নন, দেশের আরও অনেক শিল্পী, সাধারণ দর্শক চঞ্চলের ছবিগুলো পোস্ট করছেন আর প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। চঞ্চল নাকি মৃণাল এই দ্বিধায় যখন তারা ডুবে আছেন, তখন শুটিংয়ে ব্যস্ত চঞ্চল।
বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন এই অভিনেতা। কলকাতার বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিটে চলছে পদাতিতের শুটিং। তার হালচাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয় পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে।
সেখানে বলা হয়েছে, একেকটি দৃশ্যের জন্য সাত-আটটি টেক নিচ্ছেন সৃজিত। আর বিন্দুমাত্র ক্লান্তি বা বিরক্তি না দেখিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই শট দিয়ে যাচ্ছেন চঞ্চল। শুটিং দেখতে ভিড় জমানো লোকজনের অনেকেই তাকে চিনে নিচ্ছেন, যারা চিনছেন না, তারাও তার অভিনয়শক্তি দেখে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে।
সিনেমায় চঞ্চলের বিপরীতে অভিনয় করছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। তিনি অভিনয় করছেন মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের চরিত্রে।
পদাতিক নিয়ে শুটিংয়ের ফাঁকে গণমাধ্যমে সৃজিত মুখার্জি বলেন, ‘এই ছবিটা আসলে একদমই ভালোবাসার জায়গা থেকে বানানো। কোনোরকম স্ট্র্যাটেজি বা টাকা কামানোর লক্ষ্য থেকে নয়। মৃণাল সেন আসলে কলকাতা শহরটাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এলডোরাডো বলতেন। সেই এলডোরাডো আজ মৃণাল সেনকে ভুলে গেছে। কোনো রাস্তার নাম, পার্কের নাম, মেট্রো স্টেশনের নাম কোথাও তিনি নেই। তাই কলকাতাকে মনে করিয়ে দেওয়া এই ট্রিবিউটের মাধ্যমে।’
চরিত্র প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী কলকাতা ছাড়ার আগে জানিয়েছিলেন, ‘মৃণাল সেনের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বায়োপিকে সবাই বাস্তবের চরিত্রের সঙ্গে পর্দায় মেলাতে চান। কিন্তু সৃজিত খুব সাহায্য করেছেন। তখন আগ্রহটা পেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, পদাতিক সিনেমাটি নিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনও। এ ছবি ঘিরে সিনেজগতের মানুষের এত আগ্রহের কারণ, মৃণাল সেন উপমহাদেশের সেরা নির্মাতাদের একজন। তাই কেমন রূপে তাকে পর্দায় তুলে ধরা হয়, তা দেখার কৌতূহল সবার মধ্যেই বিরাজমান।