মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
অভিনয়ের মুনশিয়ানায় দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন মোশাররফ করিম। ছোট থেকে বড়পর্দা, আবার ওটিটিÑ অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীতে দর্শকের হৃদয়ে অনন্য জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কখনও হাস্যরস, কখনও গভীর আবেগ, আবার কখনও সমাজবাস্তবতার চরিত্রÑ প্রতিটি রূপেই তিনি নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে হাজির হন দর্শকের সামনে। চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অসাধারণ দক্ষতার কারণে তাকে দেশের অন্যতম সেরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান ধরে রাখা এই অভিনেতা আজও সমানভাবে নির্মাতা ও দর্শকের প্রথম পছন্দ।
নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি সিনেমা ও ওটিটি প্লাটফর্মেও সমান সফলতা অর্জন করেছেন। ‘৪২০’, ‘সিকান্দার বক্স’, ‘হাউসফুল’, ‘যমজ’, ‘ক্যারাম’, ‘মহাপুরুষ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে চলচ্চিত্রে ‘কমলা রকেট’, ‘ডিকশনারি’, ‘হাওয়া’, ‘দাগি’সহ বিভিন্ন কাজেও তিনি অভিনয়ের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। চরিত্রের গভীরতা উপলব্ধি করে তা পর্দায় জীবন্ত করে তোলাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশ-বিদেশের নানা চলচ্চিত্র উৎসবেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
অভিনয়ে একের পর এক সাফল্যের পর এবার তিনি আসছেন নতুন পরিচয়ে। প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাভাসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এ প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করলেও বিচারকের আসনে বসার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।
নতুন এই দায়িত্ব প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিচারক শব্দটা শুনতে যত সহজ মনে হয়, দায়িত্বটা কিন্তু ততটা সহজ নয়। তবে আমি যেকোনো কাজে সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করি। বাভাসি সত্যিই অসাধারণ একটি প্লাটফর্ম, যেখানে নতুনদের মেধাবিকাশের সুযোগ রয়েছে। এত বছরের ক্যারিয়ারে বিচারক হিসেবে এটাই আমার প্রথম দায়িত্ব পাওয়া। ধন্যবাদ জানাই আয়োজক কমিটিকে বিচারক হিসেবে আমাকে এমন একটি দায়িত্বে রাখার জন্য।’
এবারের বাভাসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৭৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। প্রাথমিক বাছাই শেষে নির্বাচিত হয়েছে ৫২টি চলচ্চিত্র। এরপর জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে দ্বিতীয় ধাপের জন্য সেরা ১৬টি চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য বাছাই করা হবে সাতটি চলচ্চিত্র।
উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, শিল্প নির্দেশক, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, গীতিকার, আবহসংগীত, রূপসজ্জাসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হবে।
আয়োজকদের মতে, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরের শিল্পী-নির্মাতাদের মধ্যে সৃজনশীল ভাবনার আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই এই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। আর সেই আয়োজনের প্রধান বিচারকের দায়িত্বে মোশাররফ করিমের উপস্থিতি উৎসবটির মর্যাদা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।