প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১২:২৩ পিএম
অভিনেত্রী ফরিদা পারভিন ববিতা
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা পারভিন ববিতা। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী অধ্যায়ের অন্যতম উজ্জ্বল এই তারকা শুধু অভিনয়গুণেই নয়, ব্যক্তিজীবনের দৃঢ়তা, সংগ্রাম এবং শিল্পের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্যও সমানভাবে সম্মানিত। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
ষাটের দশকের শেষভাগে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা ববিতা খুব অল্প সময়েই নিজেকে দেশের শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে নিয়ে যান। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের হাত ধরে তার অভিনয়জীবনের পথচলা শুরু হয়। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। ‘সংসার’, ‘অশনি সংকেত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘নয়নমণি’, ‘বধূ বিদায়’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমলিন।
বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ববিতা। তার অভিনয়শৈলীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের আবেগ ও বাস্তবতাকে নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরা। বিশেষ করে মা, স্ত্রী কিংবা সংগ্রামী নারীর চরিত্রে তিনি বারবার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাগুলোর একটি একুশে পদক। সম্প্রতি তিনি আরও বেশ কয়েকটি সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘হুজ হু’ সম্মাননা এবং ‘আলী রূপা ফাউন্ডেশন’ প্রদত্ত ‘মা পদক-২০২৬’। চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় এবং বাস্তব জীবনে একমাত্র ছেলে অনিককে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বছরের কিছু সময় বাংলাদেশে এবং কিছু সময় কানাডায় ছেলের কাছে কাটান ববিতা। ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক মাস তিনি দেশেই অবস্থান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি একাধিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ফলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়টা তার জন্য ছিল বেশ ব্যস্ততার।
তবে এবার আবারও কানাডায় ছেলের কাছে ফিরছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। কারণ, নিজের জন্মদিনের সময়টা তিনি সবসময় ছেলের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন। তাই শিগগিরই তিনি কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি আগামী ২৬ জুলাই অনুষ্ঠেয় ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড’-এ অংশ নেবেন। আয়োজক খান মোহাম্মদ আলীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তাকে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘প্রতিদিনই অনিকের সঙ্গে কথা হয়, ভিডিও কলে যোগাযোগ হয়। তারপরও মনটা ওর জন্য খুব ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওর কাছে চলে যাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ জুলাই অনিকের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করব। পাশাপাশি আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেব।’
তিনি আরও জানান, এই সম্মাননার জন্য আয়োজকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সঙ্গে দেখা, আড্ডা ও স্মৃতিচারণের অপেক্ষায় আছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ববিতা শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, তিনি একটি যুগের নাম, একজন কিংবদন্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার অভিনয় থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। নতুন সম্মাননা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর এই অধ্যায় যেন তার বর্ণাঢ্য জীবনের আরেকটি সুন্দর সংযোজন।