বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে গত শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। ছবি: ফেসবুক থেকে
ঢাকায় হাসপাতালের বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বত (৪৫) কে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ আদেশ দেন।
এদিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। যা মামলার তদন্তে যথেষ্ট সহায়ক হবে।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যাদি অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্যাদি অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তার দেওয়া তথ্যাদি অনুসন্ধানে এবং মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে। তবে আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না বলে জানান এসআই আবুল বাশার।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে গত শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেত্রীর স্বামী সাফি উল্লাহকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, সাফি উল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তাকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
তবে ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট/কেবিন খালি না থাকায় ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার ৮১৩ নং কেবিনে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করেন। সাফি উল্লাহকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসে। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। বিষয়টি ঝিলিক তার বোনকে জানান এবং হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিকের সাথে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক শনিবার ধানমণ্ডি মডেল থানায় মামলা করেন।