মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১২:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত।
ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে এবারও জমে উঠেছে বাংলা সিনেমার লড়াই। বড় তারকা, ভিন্নধর্মী গল্প আর উৎসবের ছুটিকে ঘিরে মুক্তি পাওয়া কয়েকটি সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মাল্টিপ্লেক্সের টিকিট বিক্রিতেও। বক্স অফিস মনিটরিং প্লাটফর্ম বিএমআরের তথ্য মতে, মুক্তির প্রথম তিন দিনে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ‘রকস্টার’।
মুক্তির তৃতীয় দিনেও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে সিনেমাটি। ঈদের তৃতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, মম ইন, মণিহার সিনেপ্লেক্স, মধুবন সিনেপ্লেক্স, সিনেস্কোপ, শ্যামলী সিনেমা, গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স ও কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে ‘রকস্টার’-এর মোট ৮১টি শো চলে। এর মধ্যে ৩২টি শো ছিল হাউজফুল, প্রায় পূর্ণ ছিল আরও কয়েকটি। সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তিন দিন শেষে এর মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস পৌঁছেছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। এর মাধ্যমে চলতি বছরে ষষ্ঠ বাংলা সিনেমা হিসেবে ই-টিকেটিংয়ের আওতাভুক্ত প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে এক কোটির ক্লাবে প্রবেশ করল সিনেমাটি। যদিও সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘রইদ’। মুক্তির তৃতীয় দিনেও সিনেমাটি ডাবল ডিজিট আয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস ও কে-স্ক্রিনে এদিন মোট ২২টি শো চলে। এর মধ্যে ৭টি শো ছিল হাউজফুল। তৃতীয় দিনে সিনেমাটির আয় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিন দিনে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
এদিকে তুলনামূলক কম শো নিয়েও ভালো সাড়া পেয়েছে ‘বনলতা সেন’। তৃতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ১১টি শো থেকে সিনেমাটি আয় করেছে ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। চারটি শো ছিল হাউজফুল। তিন দিন শেষে এর মোট গ্রস ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
একই সময়ে ‘মালিক’ও এগোচ্ছে ধীর গতিতে। তৃতীয় দিনে বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে ১৬টি শো থেকে সিনেমাটির আয় হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তিন দিনে মোট আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। শোয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও দর্শক উপস্থিতি সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদের আলোচনায় থাকা আরেক সিনেমা ‘মাসুদ রানা’। সোশ্যাল মিডিয়ায় সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাল্টিপ্লেক্সে সেই আগ্রহ পুরোপুরি দেখা যায়নি। তৃতীয় দিনে ৭টি শো থেকে এর আয় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তিন দিনে মোট আয় ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ‘পিনিক’ ও ‘অফিসার’ প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শক টানতে পারেনি। ‘পিনিক’ তৃতীয় দিনে ৫টি শো থেকে আয় করেছে ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা। আর তিন দিনে মোট আয় ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ‘অফিসার’-এর অবস্থা আরও কঠিন। ঈদের তৃতীয় দিনে একটি মাত্র শো চলে, যেখানে দর্শক ছিলেন প্রায় ৩০ জন। তিন দিনে সিনেমাটির মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ৫০ হাজার ৮০০ টাকা।
এবারের ঈদে মাল্টিপ্লেক্সের বক্স অফিসে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ‘রকস্টার’। প্রথম তিন দিনের হিসাব বলছে, দর্শকের আগ্রহ ও টিকিট বিক্রির দিক থেকে সিনেমাটি এখন স্পষ্টভাবেই এগিয়ে।