ঈদে মুক্তির ঘোষণায় থাকা পিনিক সিনেমাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদে মুক্তির ঘোষণায় থাকা পিনিক সিনেমাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজকের বিরুদ্ধে অধিকাংশ কলাকুশলীর পাওনা পরিশোধ না করেই সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে শুরু হয় পিনিক সিনেমার শুটিং। ছবিটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও বুবলী। প্রযোজনায় ছিলেন আশরাফ কিটু।
শুটিং শুরুর পর থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে নানা জটিলতার অভিযোগ ওঠে। মাঝপথে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রযোজকের দীর্ঘ সময় যোগাযোগের বাইরে থাকা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয় ইউনিটের মধ্যে।
সিনেমাটির শিল্প নির্দেশক রহমতুল্লাহ বাসু জানান, কক্সবাজারে শুটিং চলাকালে হঠাৎ করেই প্রযোজক শুটিং বন্ধের নির্দেশ দেন। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ না করেই ইউনিটকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়।
এদিকে চলচ্চিত্রটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কলাকুশলীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পার হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট আপডেটও দেওয়া হচ্ছে না।
কাস্টিং ডিরেক্টর জাহিদ দাবি করেন, শুটিং শুরুর পর থেকে তিনি ‘পাঁচশো টাকাও’ পাননি। একই অভিযোগ করেছেন আর্ট বিভাগের সহকারী আবিরও। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাদের কারও কারও পাওনা লাখ টাকার বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনেমাটির ডিওপি ফরহাদ হোসেন প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, শিল্প নির্দেশক রহমতুল্লাহ বাসু ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং সহকারী পরিচালক টিম প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন। এছাড়া অভিনেতা এ কে আজাদ সেতুসহ আরও কয়েকজন কলাকুশলীও পাওনাদারের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সহ-প্রযোজক শিমুল খান।
তিনি বলেন, “প্রযোজকের অসততা ও আমাকে অবমূল্যায়ন করার কারণেই আমি সরে গেছি। এই সিনেমার সঙ্গে এখন আমার আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই”।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রযোজক আশরাফ কিটু দায় চাপিয়েছেন সহ-প্রযোজক শিমুল খানের ওপর। তার দাবি, পুরো বিষয়টি শিমুল খান জানেন এবং টেকনিশিয়ানদের যাদের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে, তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সিনেমার কলাকুশলীরা। তারা দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সেন্সর বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।