এটা আমাদেরই গল্প
হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৬:১০ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৬:১১ পিএম
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’Ñ এ সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় ও আলোচিত একটি ধারাবাহিক নাটক। গ্রাফিক্স: মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ
এই সময়ের সুপরিচিত নাট্যপরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তার পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’Ñ এ সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় ও আলোচিত একটি ধারাবাহিক নাটক।
প্রচার শুরুর পর থেকেই আলোচিত ৫২ পর্বের এ ধারাবাহিক নাটকটি গত ৮ মে প্রচারের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এ নাটকের পরতে পরতে উঠে এসেছেÑ আমাদের সমাজের মূলশক্তি হলো পরিবার। আবহমান বাংলার এমনই একটা পরিবারের হাসি, কান্না, সম্পর্কের টানাপড়েন সব মিলিয়ে নির্মিত এবং বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ ও ইউটিউবে প্রচারিত এ নাটকটিতে অনেক দিন পর দর্শক খুঁজে পেয়েছে নিজেদের জীবনের গল্পকে, যা ছুঁয়ে গেছে আপামর দর্শকের হৃদয়।
নাটকটিতে যারা অভিনয় করেছেন, তারাও খুব প্রশংসিত হয়েছেন, হচ্ছেন। বিশেষ করে ফুপুর চরিত্রে দীপা খন্দকার, মায়ের চরিত্রে মনিরা মিঠু সবার কাছ থেকে প্রশংসায় ভাসছেন। এর বাইরে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয় করে আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী প্রশংসিত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ের এই তুমুল আলোচিত এই নাটকসহ বর্তমানে তিনি কি কাজ করছেন, সামনে কি করবেনÑ তা নিয়ে পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাসনাত শাহীন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ৫২ পর্বে শেষ হয়েছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাত্রাটা কেমন ছিল?
মোস্তফা কামাল রাজ: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ আমার কাছে এটা একটা আবেগের, চ্যালেঞ্জিং এবং একই সঙ্গে পরিপূর্ণ এক অভিজ্ঞতার যাত্রা ছিল। প্রচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটা সত্যিই অভিভূত করার মতো। হাসি, কান্না, সম্পর্কের টানাপড়েন সব মিলিয়ে আমি চেষ্টা করেছি একটা পরিবারের গল্পকে খুব কাছ থেকে দেখাতে। ৫২ পর্বের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো দর্শক নিজেদের গল্প এই সিরিজে খুঁজে পেয়েছেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: ধারাবাহিকটি এখনও দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, বিভিন্ন আড্ডা-গল্পে নাটকটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শুরু করার সময় কি এমন সাফল্য আসবে এবং আলোচনায় থাকবে তা কি ভেবেছিলেন?
মোস্তফা কামাল রাজ: কাজ শুরু করার সময় আমি আন্তরিকভাবে ভালো কিছু বানানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু এভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে সেটা ভাবিনি। এখন বিভিন্ন জায়গায় মানুষ যখন নাটকটির চরিত্র, সংলাপ বা মুহূর্ত নিয়ে কথা বলে, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। দর্শকদের এই সংযোগটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: ধারাবাহিকটি ৫২ পর্বে শেষ করার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? আরও বাড়ানোর সুযোগ কি ছিল?
মোস্তফা কামাল রাজ: একটা গল্পকে তার সৌন্দর্য ধরে রেখেই শেষ করা উচিত। চাইলে হয়তো আরও বাড়ানো যেত, কিন্তু তখন গল্পের স্বাভাবিক আবেগ ও গতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই আমরা চেয়েছি দর্শকদের মনে সুন্দর একটা অনুভূতি রেখেই সমাপ্তি করতে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: প্রতি পর্ব যেখানে ২৫-৩০ মিনিট সময়ের ছিল সেখান থেকে নাটকটির শেষ পর্ব ৯২ মিনিট হলো কেন?
মোস্তফা কামাল রাজ: শেষ পর্বটা ছিল পুরো যাত্রার আবেগময় বিদায়। অনেক সম্পর্ক, অনেক অসমাপ্ত অনুভূতি ও চরিত্রের পরিণতি একসঙ্গে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি। তাই সময়ের দিক থেকে একটু বড় হলেও, গল্পের প্রয়োজনেই ৯২ মিনিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: এই সিরিজ নির্মাণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
মোস্তফা কামাল রাজ: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধারাবাহিকের আবেগ এবং বাস্তবতাকে পুরো সময়জুড়ে ধরে রাখা। এতগুলো চরিত্র, তাদের সম্পর্ক, সময়ের চাপ সবকিছু সামলে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা সহজ ছিল না। এ ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের আবহ ও বাস্তব অনুভূতিগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরাও একটা বড় দায়িত্ব ছিল।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: দর্শকদের প্রশংসা, এক দিনে কোটি ভিউ পাওয়ার মতো রেকর্ডÑ এ অর্জনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মোস্তফা কামাল রাজ: এক দিনে কোটি ভিউ কিংবা দর্শকদের এত প্রশংসা এগুলো অবশ্যই আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার। তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের আবেগ। যখন কেউ বলে, ‘এই গল্পে আমি আমার পরিবারকে খুঁজে পেয়েছি’Ñ তখন মনে হয় একজন নির্মাতা হিসেবে সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: নাটকটি পাকিস্তানি একটি সিরিয়াল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করা। একটা ভিন্ন দেশ এবং সংস্কৃতির গল্প থেকে আপনি কীভাবে এটিকে সম্পূর্ণ আমাদের আবহমান সামাজিক-সংস্কৃতির আদলে নির্মাণ করলেন? Ñএ রূপান্তরের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?
মোস্তফা কামাল রাজ: গল্পের অনুপ্রেরণা বাইরের একটি কাজ থেকে এসেছে, তবে আমি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি এটাকে পুরোপুরি আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও পারিবারিক আবহের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে। আমাদের ভাষা, সম্পর্কের ধরন, পারিবারিক মূল্যবোধ, হাসি-কান্না সবকিছুই বাংলাদেশের বাস্তবতা থেকে নেওয়া। আমি মনে করি, একটা গল্পের মূল আবেগ সর্বজনীন হতে পারে, কিন্তু সেটাকে নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে মেলাতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: এখন আপনি কি করছেন, নতুন কোনো ধারাবাহিক নিয়ে কাজ করছেন কি?
মোস্তফা কামাল রাজ: ঈদের জন্য দুইটা কাজ শেষ করলাম। এর একটা ‘তোমাদের গল্প ২’ এবং অন্যটা ‘দ্য অভিযান’। এখন আর কাজ করছি না। দুই মাস একটু বিশ্রাম নেব, তারপর নতুন একটি সিরিজ করার প্ল্যান আছে; সেটা অলরেডি আপনারা জানেন, যার টাইটেল ‘ফিরে আসার গল্প’।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ: আবহমান বাংলার সামাজিক-সংস্কৃতি নিয়ে আপনার আরও কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?
মোস্তফা কামাল রাজ: অবশ্যই। আমাদের আবহমান বাংলা, পারিবারিক বন্ধন, সম্পর্কের সৌন্দর্য ও সামাজিক বাস্তবতাÑ এগুলো নিয়েই আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে।