কারিনা কায়সারের মৃত্যু
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ ১১:২৬ এএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬ ১১:২৮ এএম
চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কারিনা কায়সার। ছবি: কারিনা কায়সারের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে দেশে আনা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তার মা লোপা কায়সার।
তিনি জানান, কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইট ধরা সম্ভব হয়নি।
লোপা কায়সার মোবাইল ফোনে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এখন আমরা জানি না। অনেকগুলো প্রসেস আছে তো, এই প্রসেসগুলো কমপ্লিট করে আমরা ফ্লাই ধরতে পারলেই তখন বলেতে পারব।
“কারণ আজকে মানে ১১টার সময় ইন্ডিগো ফ্লাইট ছিল, ১১টার ভেতরে আমাদের কাগজ কমপ্লিট হবে না।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলেছে।
“২টা ৪৫ মিনিটে একটা ফ্লাইট আছে, যদি ডেডবডি সবকিছু দিয়ে দেয় তাহলেই আমরা বের হতে পারব। যদি …২টা ৪৫-এর ফ্লাইট ধরতে হয় তাহলে আমাদেরকে মিনিমাম ১২টার সময় চলে যেতে হবে”, বলেন তিনি।
মা আরও বলেন, এখন তো গোছাগুছির বিষয় আছে। প্রথমে জানতে পালাম আজ কোনো ফ্লাইটই নেই, পরে হাইকমিশন থেকে বলল ২টা ৪৫-এ একটা ফ্লাইট আছে। এখনও আমি নিশ্চিত কিছু জানি না।
মেয়ের মৃত্যু শোকে কাঁদতে কাঁদতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ফুলের মতন হাসিখুশি মেয়েটা, যে মেয়েটা কথা বলার আগে হাসত সেই মেয়েটাকে… লিভারের কষ্ট ছিল।
“লিভারের প্রবলেম থেকে আইসিইউতে ভর্তি করে ফেলছে ওরা সাথে সাথে। আমার মেয়েটাকে শুধু ঘুমের ওষুধ দিত, শুধু ঘুমের ওষুধ দিত; একটা কথা বলতে পারে নাই আমাদের সাথে।”
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়েও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে বাঁচানো যায়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সবার কাছে দোয়া চান।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে কারিনার বাবা কায়সার হামিদের একটি স্ট্যাটাসে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্ট্যাটাসে জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার বলেন, চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে কারিনা মারা গেছেন। পাশাপাশি তিনি সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা চেয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিভার জটিলতায় আক্রান্ত কারিনাকে প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমে প্রথম আলোকে শুক্রবার কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।
মৃত্যুকালে কারিনার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে এবং প্রখ্যাত দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি।