মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ১৭:১৯ পিএম
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব আবারও পরিণত হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের মিলনমেলায়। ‘বড়পর্দার অলিম্পিক’ খ্যাত এই উৎসব শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জায়গা নয়, বরং এটি বিশ্ব সিনেমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অন্যতম কেন্দ্র। বিশ্বের নামকরা পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক, সেলস এজেন্ট ও সমালোচকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের কান শহর। ১২ মে শুরু হওয়া ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব চলবে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত। এবারের আসর ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।
উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দেখানো হবে ফরাসি নির্মাতা পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’। পাশাপাশি আজীবন সম্মাননা অনারারি পাম দ্যর পাচ্ছেন পিটার জ্যাকসন এবং কিংবদন্তি শিল্পী বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড। ফলে শুরু থেকেই এবারের কান উৎসব পেয়েছে বিশেষ মাত্রা।
এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বর্ণপাম জয়ের লড়াইয়ে রয়েছে ২২টি চলচ্চিত্র। সিনেমাপ্রেমীদের নজর সবচেয়ে বেশি কেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা না হং-জিন পরিচালিত ‘হোপ’ এবং ইরানি অস্কারজয়ী নির্মাতা আসগর ফরহাদির ‘প্যারালাল টেলস’। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় রয়েছে জেমস গ্রের ‘পেপার টাইগার’, পেদ্রো আলমোদোবারের ‘আমার্গা নাভিদাদ’, হিরোকাজু কোরে-এডার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ এবং রিয়ুসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’। ফলে এশীয় ও ইউরোপীয় নির্মাতাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে এবারের আসরে।
কানের এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতিমান পরিচালক পার্ক চ্যান-উক। কানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কোরীয় নির্মাতা জুরিপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। বিচারক প্যানেলে আরও আছেন ডেমি মুর, রুথ নেগা, অস্কারজয়ী নির্মাতা ক্লো ঝাও, সুইডিশ অভিনেতা স্টেলান স্কার্সগার্ড, বেলজিয়ান পরিচালক লরা ওয়ান্ডেল, চিলির নির্মাতা দিয়েগো সেসপিদিস, অভিনেতা ইসাক দ্য বাঙ্কোলে এবং স্কটিশ চিত্রনাট্যকার পল লাভার্টি।
এবারের উৎসবে আরব বিশ্বের সিনেমাগুলোর শক্ত উপস্থিতিও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামাজিক পরিবর্তন, নারী অধিকার ও মানবিক সংকট নিয়ে নির্মিত একাধিক চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। স্বর্ণপামের জন্য প্রতিযোগিতা করছে মিসরীয়-ফরাসি নির্মাতা আর্থুর হারারির ‘দ্য আননোন’। আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগে রয়েছে মরক্কোর নির্মাতা লায়লা মারখির ‘লা মাস দুলসে’ এবং ফিলিস্তিনি নির্মাতা রাকন মায়াসির ‘ইয়েস্টারডে দ্য আই ডিডন্ট স্লিপ’। এ ছাড়া ক্রিটিকস উইকে প্রদর্শিত হবে লেবাননের আলী চেরির ‘দ্য সেন্টিনেল’ ও সিরিয়ার দাউদ আল আবদুল্লাহর ‘নাফরন’।
দক্ষিণ এশিয়ার অংশগ্রহণও এবারের উৎসবে বেশ জোরালো। ক্রিটিকস উইক বিভাগের জুরিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভারতীয় নির্মাতা পায়াল কাপাদিয়া। ২০২৪ সালে তার চলচ্চিত্র ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’ গ্র্যান্ড প্রিক্স জয়ের পর এটি ভারতের জন্য আরেকটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নেপালি নির্মাতা অবিনাশ বিক্রম শাহর ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’ প্রথম নেপালি সিনেমা হিসেবে আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে।
ভারত থেকেও এবার বিশাল প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, আলিয়া ভাট, করণ জোহর, অদিতি রাও হায়দারি, কল্যাণী প্রিয়দর্শন, তারা সুতারিয়া ও মৌনি রায়।
যদিও এবার বাংলাদেশের কোনো সিনেমা উৎসবের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে জায়গা পায়নি, তবুও দেশের কয়েকজন নির্মাতা ও প্রযোজক কান ফিল্ম মার্কেটে নিজেদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। গত বছর বাংলাদেশি নির্মাতা আদনান আল রাজীবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’ স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।