মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ১১:১৮ এএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬ ১২:২২ পিএম
ববিতা।
ফরিদা আখতার পপি (ববিতা) বাংলা চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় তিনি ছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়ের নায়িকা। অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে। তবে আলো ঝলমলে সেই পরিচয়ের বাইরেও ববিতার সবচেয়ে প্রিয় পরিচয়, তিনি একজন মা। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন স্মৃতির অ্যালবাম খুলে বসেছিলেন কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী। জীবনের নানা অজানা অধ্যায়, সংগ্রাম, ভালোবাসা আর মাতৃত্বের আবেগঘন গল্পে ভরে ওঠে পুরো আয়োজন।
গত শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ‘মা পদক ২০২৬’ তুলে দেন আবুল হায়াত। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে একজন আদর্শ মা হিসেবে একমাত্র সন্তান অনিক ইসলামকে বড় করে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার উঠে আসে মাতৃত্ব, সংগ্রাম আর একাকী জীবনের গল্প। আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন, ‘একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।’
১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন ববিতা। দীর্ঘ ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম হয় তাদের একমাত্র সন্তান অনিক ইসলামের। কিন্তু সুখের সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি স্বামীকে হারান এই অভিনেত্রী। তখন অনিকের বয়স মাত্র তিন বছর।
স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনে নতুন করে সংসার শুরু করার সুযোগ এলেও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘অনিক পিতৃহারা হওয়ার পর অনেকেই আমার জীবনে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনও চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু অনড় ববিতা সন্তানের কথা ভেবে দ্বিতীয়বার সংসারজীবন শুরু করেননি।
নিজের একমাত্র সন্তানকে নিয়েই ছিল তার সমস্ত স্বপ্ন আর সংগ্রাম। সেই অনিক আজ কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ছেলের সংস্পর্শে থাকতে প্রায়ই কানাডায় সময় কাটান এই অভিনেত্রী।
ছেলেকে নিয়েই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির কথা তুলে ধরে ববিতা বলেন, ‘অনিক আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে। জীবনের বাকি সময়টুকু আমি সন্তানের ভালোবাসা নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।’
মাতৃত্বের মাহাত্ম্য তুলে ধরতে গিয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা কাহাফের ৪৬ নম্বর আয়াতও উল্লেখ করেন তিনি। ববিতা বলেন, ‘ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা। মহান আল্লাহ আমাকে সেই নেয়ামত দিয়েছেন।’
সবশেষে সবার কাছে নিজের এবং ছেলে অনিকের জন্য দোয়া চান এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না একজন মা হিসেবে কতটুকু সফল হয়েছি। তবে আমার সবকিছুই আমার সন্তানকে ঘিরে।’
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ববিতা এক অনন্য নাম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন প্রায় ২৭৫টি সিনেমায়। দেশের শীর্ষ নির্মাতাদের পাশাপাশি বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাতেও অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই গুণী শিল্পী।