মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১১:৪৭ এএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১২:০৬ পিএম
অভিনেত্রী, শবনব বুবলী। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি ভিন্নধর্মী সিনেমা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য, জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। মৃত্তিকা ছবিঘরের প্রযোজনায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির প্রযোজক মীর জাহিদ হাসান এবং পরিচালনায় রয়েছেন রাখাল সবুজ। কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আনন জামান।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান একদল শিল্পী। প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে শবনব বুবলী, জিয়াউল রোশান এবং শহীদুজ্জামান সেলিমকে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন আজাদ আবুল কালাম, আশিক রহমান লিয়ন, সাঈদ হাসান রাজা, আশরাফ কবির, উইলিয়াম ভিকি নিক্সনসহ আরও অনেকে। সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী ব্যন্জন জামান, মো. শাহনেওয়াজ, ইকবাল চৌধুরী, লিসা, স্বপ্নমায়া, আমজাদ হোসেন, সুমি আকতার, সোফিয়া শোভা, আলফা, রোদোয়ান হোসেন এবং কাইউম খান। পাশাপাশি সিনেমাটিতে অংশ নিয়েছেন অসংখ্য লাঠি খেলোয়াড়, যা চলচ্চিত্রটিকে আরও বাস্তবধর্মী করে তুলেছে।

নির্মাতাদের বিশ্বাস, এই সিনেমার মাধ্যমে দর্শক বুবলী, রোশান ও আজাদ আবুল কালামকে একেবারেই নতুনভাবে দেখবে। তাদের অভিনয়শৈলী আগের অনেক কাজকে ছাপিয়ে যাবে বলেই প্রত্যাশা করছেন।
‘সর্দারবাড়ির খেলা’ চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য লাঠিখেলা। হাজার বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিনেমার কাহিনী। তবে এটি কেবল একটি খেলার গল্প নয়; বরং এর ভেতরে লুকিয়ে আছে মানুষের জীবন, সমাজ এবং সংগ্রামের বহুমাত্রিক বাস্তবতা। গ্রামীণ মানুষের আনন্দ-উৎসব, প্রেম-ভালোবাসা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং টিকে থাকার লড়াইÑ সবকিছুই উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে।
চলচ্চিত্রটির গল্পে ধ্রুপদী বিনোদনের পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকশন ও থ্রিলারের উপাদান। উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য, নাটকীয় মোড় এবং আবেগঘন মুহূর্ত দর্শকদের টানটান আগ্রহ ধরে রাখবে বলে মনে করছেন নির্মাতা। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত হলেও এর গল্প ও বার্তা সর্বজনীন, যা সব শ্রেণির দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
নেপথ্যে কাজ করেছেন একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ কলাকুশলী। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন নুরুল ইসলাম শাহেদ। চিত্রগ্রহণ করেছেন ফরহাদ হোসেন, যা চলচ্চিত্রটির ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সম্পাদনায় তৌহিদ হোসেন চৌধুরী এবং শিল্প নির্দেশনায় রহমতউল্লাহ বাসু চলচ্চিত্রটিকে একটি শক্তিশালী নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। কস্টিউম ডিজাইনার এনাম তারা শাকি গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরিকল্পনা করেছেন, আর নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন হাবিব রহমান।

সংগীতেও রয়েছে বৈচিত্র্যÑ গীতিকার সুদীপ কুমার দ্বীপের কথায় সুর দিয়েছেন শাহরিয়ার রাফাত ও সজিব দাস। কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল, বেলাল খান, সাগর দেওয়ান এবং নিজে পরিচালক রাখাল সবুজ। আবহ সংগীতে নির্ঝর চৌধুরী চলচ্চিত্রটির আবেগঘন পরিবেশকে আরও গভীর করেছেন। সাউন্ড ডিজাইনে কাজ করেছেন কাজী সেলিম আহমেদ এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন ফাইট ডিরেক্টর ডিএইচ চুন্নু।
চলচ্চিত্রটির ডিআই কালারিস্ট হিসেবে ছিলেন আসফাক আহমেদ খায়ের এবং পাব্লিসিটি ডিজাইনে কাজ করেছেন সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম। বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন হেড অব মার্কেটিং মীর মাশরুর রেদোয়ান হাসান। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. শাহনেওয়াজ। পরিবেশনায় রয়েছে দ্য অভি কথাচিত্র। এ ছাড়া ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে রয়েছে টাইগার মিডিয়া এবং ডিজিটাল মার্কেটিং করছে বিডিফিল্ম বায্।
শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আসছে এই প্রতীক্ষিত সিনেমাটি।