মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৭ পিএম
নাজিফা তুষি, ছবি: সংগৃহীত।
রুপালি পর্দার ঝলমলে আলো অনেককেই কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে, তবে খুব কম মানুষই সেই আলোকে নিজের মতো করে রূপ দিতে পারেন। নাজিফা তুষি সেই বিরলদের একজনÑ যিনি আলোয় উপস্থিত থেকেও আলোকে নয়, প্রাধান্য দেন চরিত্রকে। তার অভিনয়যাত্রা কোনো তাড়াহুড়োর দৌড় নয়; বরং সময় নিয়ে, ভাবনা আর বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক পরিমিত পথচলা। এই সচেতন যাত্রাতেই তিনি নির্মাণ করেছেন নিজের আলাদা স্বরÑ যেখানে গ্ল্যামারের চেয়ে সত্য আর গভীরতাই বেশি উজ্জ্বল।
শুরুটা ছিল নিঃশব্দ, প্রায় অদৃশ্যের মতো। বড়পর্দায় প্রথম কাজ করলেও তা তাকে তাৎক্ষণিক পরিচিতি এনে দেয়নি। কিন্তু তুষির গল্পটা ঠিক সেখানেই আলাদাÑ তিনি কখনোই দ্রুত আলোচনায় আসার তাড়নায় ভেসে যাননি। বরং সময় নিয়েছেন, নিজেকে প্রস্তুত করেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন এমন চরিত্রের জন্য, যা তার ভেতরের অভিনেত্রীকে প্রকাশ করতে পারে।

এই অপেক্ষার ফল মিলেছিল ‘হাওয়া’ সিনেমার মাধ্যমে। এখানে তিনি শুধু একটি চরিত্রে অভিনয় করেননি; বরং নিজের অভিনয়বোধকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দর্শক তাকে দেখেছে অন্য আলোয়, আর সেই দেখাটাই তাকে এনে দেয় বিশ্বাসযোগ্যতা। এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হয়, যেখানে দর্শক জানেÑ তুষি মানেই ভিন্ন কিছু।
কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং জনপ্রিয়তার ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি বেছে নেন আরও কঠিন পথ। যখন অনেকেই ধারাবাহিক কাজের ভিড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা মজবুত করতে চান, তখন তুষি ফিরে যান চরিত্রের গভীরে। সেই খোঁজ থেকেই তার যুক্ত হওয়া ‘প্রেশার কুকার’-এ একটি গল্প, যেখানে একজন অভিনেত্রীর জন্য নিজেকে বারবার ভেঙে নতুন করে গড়ার সুযোগ ছিল।

এই সিনেমায় তার উপস্থিতি ছিল বহুস্তরীয়। একেকটি দৃশ্যে যেন একেকটি জীবন বয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। চরিত্রের ভেতরে ঢুকে পড়ার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, মানসিক পরিবর্তন, এমনকি সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণÑ সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখানে তিনি প্রমাণ করেন, অভিনয় তার কাছে শুধুই পেশা নয়; এটি এক ধরনের আত্মঅন্বেষণ।
এরপর আসে আরও এক সাহসী অধ্যায়Ñ ‘রইদ’। এই কাজের জন্য তিনি নিজেকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা সমকালীন অনেক অভিনেত্রীর জন্যই এক দৃষ্টান্ত। চরিত্রকে বাস্তব করে তুলতে তিনি বেছে নিয়েছেন কঠোর জীবনযাপন। নিজেকে শহুরে পরিচ্ছন্নতা থেকে সরিয়ে এনে মিশিয়েছেন মাটির সঙ্গে।

চরিত্রের প্রয়োজনেই বদলেছে তার বাহ্যিক রূপ, কণ্ঠস্বর, এমনকি জীবনযাপনের ছন্দ। তিনি নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করেছেন, যেন পর্দায় দেখা মানুষটি কোনো অভিনেত্রী নয়Ñ বরং গল্পেরই একজন বাস্তব মানুষ।
তুষির মতে, অভিনয় মানে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা নয়; বরং চরিত্রকে সত্য করে তোলা। সেই কারণেই তিনি সহজ জনপ্রিয়তার পথ এড়িয়ে চলেন এবং অপেক্ষা করেন এমন কাজের জন্য যা তাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানায়।
বর্তমানে তিনি যুক্ত রয়েছেন একাধিক কাজে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও ব্যস্ত সময়ের। নতুন নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা, ভিন্নধর্মী চরিত্রÑ সব মিলিয়ে সামনে তার জন্য অপেক্ষা করছে আরও বিস্তৃত এক পরিসর।