মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪০ পিএম
ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘প্রিন্স’ নিয়ে শুরু থেকেই ছিল দর্শকের মধ্যে বড় প্রত্যাশা। আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণশৈলী, বলিউডের অভিজ্ঞ প্রোডাকশন টিম এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারÑ সব মিলিয়ে সিনেমাটির ওপর তৈরি হয়েছিল এক উচ্চাভিলাষী আগ্রহ। নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য ভিন্নমাত্রার একটি প্রজেক্ট। তবে মুক্তির পর পরিপ্রেক্ষিত কিছুটা ভিন্ন। দর্শক ও সমালোচকের চোখে দেখা গেল, প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক চোখে পড়ার মতো।
বৃহৎ বাজেট ও আন্তর্জাতিক কাজের ছাপ থাকা সত্ত্বেও সিনেমার কিছু অংশ দর্শককে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহে ঈদের দিনও ‘প্রিন্স’ মুক্তি পায়নি, যা শুরুতেই এর চলমান গতি কমিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে নেতিবাচক রিভিউ ও সমালোচনার কারণে দর্শক আগ্রহ ক্রমে কমতে থাকে। তবুও প্রেক্ষাগৃহে যে দর্শক ছিলেন, তারা মূলত শাকিব খানের স্টারডম এবং জনপ্রিয়তার কারণে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্ট সিনেপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’ সিনেমার একটি বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। সেখানে সিনেমার কলাকুশলী, নির্মাতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব খান। নিজের বুকের ওপর হাত রেখে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমি এটুকু মানছি যে, ‘প্রিন্স’ টিম দর্শকের পরিপূর্ণ একটি সিনেমা দিতে পারেনি। আমরা দেশের মানুষের কাছে সেই বার্তাও পৌঁছাতে পারিনি। তবে বিশ্বাস করুন, আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না।’
শাকিব জানান, সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে আইনি জটিলতা। পারমিশন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শুটিং তিন মাস বন্ধ থাকায় পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সময়ের চাপে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গল্পটা শোনার পর মনে হয়েছিল এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হবে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কাছে আমরা হেরে গেছি। তাই টিমের পক্ষ থেকে আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী।’
দর্শকের সমালোচনার বিষয়গুলোও স্বীকার করেছেন শাকিব। টেকনিক্যাল ত্রুটি, সিজি এবং কালার গ্রেডিংয়ের দুর্বলতার কথা তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব কাজ ঠিকভাবে করতে হলে পর্যাপ্ত সময় দরকার। কিন্তু আমরা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং করেছি। ফলে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।’
সিনেমায় শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান, রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, শরীফ সিরাজ এবং আরও অনেকে। যদিও মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া মিশ্র, তবে শাকিবের আন্তরিক স্বীকারোক্তি ও ব্যর্থতার দায় নেওয়ার মনোভাব দর্শকের মাঝে একধরনের প্রশংসনীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
বড় বাজেট, স্টার ক্যাস্ট এবং উচ্চ প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও, ‘প্রিন্স’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñ সিনেমা শুধু প্রযুক্তি ও অর্থের বিষয় নয়; সময়, পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন। সিনেমাটির খুঁটিনাটি ত্রুটি থাকলেও এতে শাকিব খানের প্রচেষ্টা এবং টিমের নিষ্ঠা স্পষ্ট। ফলে দর্শক এখন কেবল সিনেমার ফলাফল নয়, এর পেছনের গল্প ও নির্মাণ যাত্রাটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
এই চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, উচ্চ প্রত্যাশা থাকলে তা পূরণ করা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি সঠিক সময় ও প্রস্তুতির গুরুত্ব অপরিসীম। ‘প্রিন্স’ হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী পৌঁছায়নি, তবে এটি বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের শিক্ষণীয় এক অধ্যায় হিসেবেই মনে থাকবে।