প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৫ পিএম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৭ পিএম
টালিউড অভিনেতা,রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
একটা জীবন, অনেকগুলো চরিত্র, আর অগণিত স্মৃতির ভিড়ে হঠাৎ করেই থেমে গেল এক পরিচিত মুখের
গল্প। আলো-আঁধারির মঞ্চ,পেরিয়ে যেন এক
অদ্ভুত নীরবতায় মিলিয়ে গেলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সমুদ্রের ঢেউ
যেমন হঠাৎ এসে সবকিছু ভিজিয়ে দেয়, তেমনি তাঁর
আকস্মিক প্রয়াণও নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো টলিউড এবং তাঁর অগণিত ভক্তকে।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম
রাহুলের। অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল থিয়েটারের মঞ্চে। বিজয়গড় থিয়েটার দলের হয়ে ‘রাজ দর্শন’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা
শুরু। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের পরিবেশে বড় হওয়া রাহুলের অভিনয়ের ভিত গড়ে ওঠে পরিবার
থেকেই। এরপর ধীরে ধীরে টেলিভিশন এবং বড় পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
২০০৮ সালে চিরদিনই তুমি যে আমার সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান
রাহুল। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
সিনেমার সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা
সরকার-এর সঙ্গে বাস্তব জীবনেও গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক, যা পরে বিবাহে রূপ নেয়। যদিও একসময় বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা
গিয়েছিল,
পরে ছেলে সহজের কথা ভেবে আবার একসঙ্গে পথচলা শুরু করেন
তাঁরা।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুল
সঞ্চালনা করতেন ‘সহজ কথা’ নামে একটি পডকাস্ট শো, যা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সিনেমা, সিরিয়াল ও থিয়েটার-সব মাধ্যমেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি। তাঁর উল্লেখযোগ্য
কাজের মধ্যে রয়েছে ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’,
‘কাগজের বউ’, ‘জুলফিকার’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘যকের ধন’, ‘ঝরা পালক’, ‘আকাশ অংশত মেঘলা’সহ আরও অনেক ছবি।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার ছোট
পর্দায় ফিরে আসেন রাহুল। সম্প্রতি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছিল। এই
ধারাবাহিকের শুটিংয়ের কাজেই তিনি গিয়েছিলেন তালসারি সমুদ্র সৈকতে, যা পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী এলাকা।
রোববার সেখানে শুটিং শেষ হওয়ার
পর ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে
দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কীভাবে এই
দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তাঁর মৃত্যুর পর আরও এক বিষয়
ঘিরে আবেগঘন আলোচনা শুরু হয়েছে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে নিজের ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট
করেছিলেন রাহুল। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই ছবির
ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন-‘সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসাথে দেখার শেষ সুযোগ’। সেই সময় হয়তো এই কথার গভীরতা
কেউ বুঝতে পারেননি, কিন্তু তাঁর
আকস্মিক মৃত্যুর পর সেটি যেন এক রহস্যময় ইঙ্গিত হয়ে ফিরে এসেছে।
রাহুলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া
নেমে এসেছে পুরো টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন সহকর্মীরা-সুদীপ্তা চক্রবর্তী, নীলাঞ্জনা শর্মা, দেবলীনা দত্ত, সোহিনী সরকার, সৌরভ দাস, গৌরব
চক্রবর্তী, রিদ্ধিমা ঘোষসহ আরও
অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁরা স্মৃতিচারণা করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।