মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৪ পিএম
প্রেশার কুকার সিনেমার পোন্টারে চার নায়িকা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমার উচ্ছ্বাস। আর সেই উৎসবকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সময়ের আলোচিত নির্মাতা রায়হান রাফী। বাণিজ্যিক ও ভিন্নধর্মী গল্প বলার দক্ষতায় ইতোমধ্যেই দর্শকের আস্থা অর্জন করা এই নির্মাতা এবার নিয়ে আসছেন নারীপ্রধান গল্পের চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’। পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদেই মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে ‘প্রেশার কুকার’-এর প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার। পোস্টারে চার নারী চরিত্রকে চারটি আলাদা আবহে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা গল্পের ভেতরের বৈচিত্র্য ও অন্তর্দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পোস্টারে নেই কোনো পুরুষ চরিত্র। নায়কবিহীন এই উপস্থাপনাই ইতোমধ্যে দর্শকের মাঝে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে।
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। চারজন নারীর ভিন্ন ভিন্ন জীবনসংগ্রাম, মানসিক টানাপড়েন, সম্পর্কের জটিলতা এবং শহুরে বাস্তবতার চাপÑ এসব বিষয়ই ছবির গল্পের কেন্দ্রে জায়গা পেয়েছে। নির্মাতার মতে, ঢাকার নাগরিক জীবনে নারীদের প্রতিদিনের সীমাবদ্ধতা, না বলা কষ্ট এবং অদৃশ্য লড়াই থেকেই ‘প্রেশার কুকার’-এর গল্পের জন্ম।
পোস্টার শেয়ার করে রাফী লিখেছেন, ঢাকা শহর যেন নারীদের জন্য এক ‘প্রেশার কুকার’। চারপাশের চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা আর ব্যক্তিগত সংকট যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে, তখন সেই নীরব আর্তনাদ একসময় বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ পায়। তার ভাষায়, ‘নীরবতা যখন আর ধরে রাখা যায় না, তখনই বেজে ওঠে সিটির শব্দ।’ এই প্রতীকী ভাবনাই ছবির নাম ও কনসেপ্টে প্রতিফলিত হয়েছে।
মূলধারার বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় প্রধান কোনো পুরুষ চরিত্র ছাড়া চার নারীকে কেন্দ্র করে গল্প বলা নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ। নির্মাতার বিশ্বাস, এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় নতুন এক ধারা তৈরি হতে পারেÑ যেখানে নারী চরিত্র কেবল পার্শ্বচরিত্র নয়, বরং গল্পের চালিকাশক্তি।
‘প্রেশার কুকার’ নির্মিত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে। যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী। এর আগে রাফী উপহার দিয়েছেন ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্র যেমন পরাণ, সুড়ঙ্গ ও তুফান। প্রতিটি সিনেমাতেই তিনি ভিন্ন ঘরানার গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন।
এবার তিনি ঢাকার নাগরিক জীবনের সামাজিক টানাপড়েন এবং নারীদের ব্যক্তিগত সংগ্রামকে বড়পর্দায় তুলে ধরতে চান নতুন আঙ্গিকে। ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘প্রেশার কুকার’ তাই শুধু বিনোদন নয়, বরং সমসাময়িক বাস্তবতার এক শক্তিশালী প্রতিফলন হয়ে উঠবÑ এমনটাই প্রত্যাশা নির্মাতা ও দর্শক উভয়ের।