× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার

নীরব ভালোবাসার গল্পে ‘নীল রেইনকোট’

মাহমুদা বিশ্বাস

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৪ পিএম

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪১ পিএম

মাফতুহা জান্নাত জীম ও সাদ নাওভি।

মাফতুহা জান্নাত জীম ও সাদ নাওভি।

নীল রেইনকোট এক আবেগঘন গল্প, যেখানে অর্পিতা ও শুভ্রের নীরব ভালোবাসা ও অপেক্ষার গল্প ফুটে উঠেছে। মাফতুহা জান্নাত জীম, সাদ নাওভি, রুবেল আনুশ ও লেখক তানভীর হাসান রামিমের সঙ্গে কথোপকথনে মাহমুদা বিশ্বাস গল্পের আবহ, চরিত্র ও নির্মাণের পেছনের কাহিনী উন্মোচন করেছে।

মাফতুহা জান্নাত জীম

প্রশ্ন : নাটকে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

উত্তর : চমৎকার। ‘নীল রেইনকোট’ নাটকের শুটিং অভিজ্ঞতা আমার জন্য ভীষণ আবেগঘন ও স্মরণীয়। বর্ষার আবহ, পুরনো বইয়ের দোকান, চা আর বৃষ্টির দৃশ্যÑ সব মিলিয়ে পুরো কাজটাই ছিল এক অন্যরকম অনুভূতি। সহশিল্পী সাদ নাওভির সঙ্গে কাজ করেও দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছি। 

প্রশ্ন : নাটকে আপনি কেমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন?

উত্তর : এই নাটকে আমি অর্পিতা চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে কি না এক নিঃসঙ্গ, অন্তর্মুখী তরুণী। অর্পিতা নিরন্তর অপেক্ষার ভেতর দিয়ে তার ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখে। স্টেশন কিংবা বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় নীল রেইনকোটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অর্পিতা যেন এক অনন্ত বিরহের প্রতীক যেখানে না-ফেরাটুকুই প্রেমকে পবিত্র রাখে।

প্রশ্ন : ‘নীল রেইনকোট’-এর আগে কী কী কাজ করেছেন?

উত্তর : আমি নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছি। বিভিন্ন গল্পভিত্তিক ও ভালোবাসা দিবসে বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি। প্রতিটি কাজ থেকেই শেখার চেষ্টা করেছি। তবে ‘নীল রেইনকোট’ আমার ক্যারিয়ারে আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছে, কারণ এই নাটকের পর দর্শকের কাছ থেকে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি।

সাদ নাওভি

প্রশ্ন : ‘নীল রেইনকোট’ নাটকে আপনি কেমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন?

উত্তর : ‘নীল রেইনকোট’-এ আমি শুভ্র চরিত্রে অভিনয় করেছি। একজন বেকার যুবক। যার সবচেয়ে বড় আশ্রয় বই আর শব্দের ভেতর লুকিয়ে থাকা অনুভূতি।

প্রশ্ন : নাটকের গল্প সর্ম্পকে জানতে চাই।

উত্তর : গল্পের শুরু এক ঘন বর্ষায়। বৃষ্টিভেজা মুহূর্তে অর্পিতার সঙ্গে শুভ্রর পরিচয়। দুই নিঃসঙ্গ মানুষের অদ্ভুত এক সংযোগ। বইয়ের দোকান, হাতে লেখা চিরকুট আর একটি নীল রেইনকোটÑ এসব মিলেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের তাদের সম্পর্কটি সরল প্রেমের গল্প নয়। এখানে ভালোবাসা মানে একসঙ্গে থাকা নয়, বরং মনে জায়গা করে নেওয়াÑ শেষের কবিতার মতো এক নীরব, মানসিক বন্ধন। সময় এখানে বড় চরিত্রÑ যেমনটি আমরা পাই জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই চিরন্তন হাহাকারে। শেষ পর্যন্ত শুভ্র আর অর্পিতার প্রেম পূর্ণতা পায় না; থেকে যায় স্মৃতি, বৃষ্টি আর একটি নীল রেইনকোট। 

পরিচালক,রুবেল আনুশ।

রুবেল আনুশ

প্রশ্ন : নাটকটির নির্মাণ ভাবনা এলো কীভাবে? 

উত্তর : ‘নীল রেইনকোট’-এর নির্মাণ ভাবনা আসে গল্প থেকেই। গল্পের লেখক তানভীর হাসান রামিমের ‘নীল রেইনকোট’ গল্পটি প্রথম পড়েই আমি গভীরভাবে স্পর্শিত হই। গল্পের ভেতরে যে নীরব আবেগ, অপেক্ষা এবং অপ্রকাশিত ভালোবাসার দর্শন ছিল সেটি আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এই গল্পকে দৃশ্যায়ন রূপ দেওয়া যায়। 

প্রশ্ন : ঈদে আপনার নির্মিত কোনো নতুন নাটক আসছে কি?

উত্তর : হ্যাঁ! ঈদ উপলক্ষে আমার নির্মিত নতুন নাটক আসছে। সেটিও প্রেম আবহে নির্মিত সম্পর্কভিত্তিক গল্প। আশা করছি ঈদে দর্শকদের জন্য আরেকটি দারুণ কাজ উপহার দিতে পারব।

লেখক,তানভির হাসান রামিম।

তানভির হাসান রামিম

প্রশ্ন : ‘নীল রেইনকোট’ নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখার পেছনের গল্প জানতে চাই।

উত্তর : নীল রেইনকোট গল্পটি লেখার পিছনের গল্পটা একটু ভিন্ন। আমি সব সময়ই আমার গল্পে নস্টালজিক কিছু রাখার চেষ্টা করি। যেটা একজন পাঠক হিসেবে যখন পড়বে কিংবা একজন দর্শকের দর্পনে যখন দেখবে তখন দর্শক যেন কিছু সময়ের জন্য হলেও নব্বই দশকে হারিয়ে যেতে পারে। নীল রেইনকোট গল্পে চিঠি, বই আর হঠাৎ পরিচয়ে একটা রেইনকোট বিনিময়ের মাধ্যমে একটা সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন হতে পারে সেটিই খোঁজার চেষ্টা করেছি। 

প্রশ্ন : আপনি কি কোনো বাস্তব ঘটনা বা সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাটকের গল্প লিখেছেন?

উত্তর : লেখালেখির শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ শখের বশেই। ‘নীল রেইনকোট’-ও একই ভাবনা থেকে জন্মেছে। এখানে লক্ষ্য ছিল এমন কিছু তৈরি করা, যা দর্শক বা পাঠকের জন্য বাস্তব হয়ে ওঠে। গল্পটি তখনই সফল হবে, যখন একজন দর্শক তা দেখবে বা একজন পাঠক তা পড়বে এবং গল্পে নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবে। অর্থাৎ নীল রেইনকোটের আয়নায় যখন দর্শক নিজেকে দেখবেন, তখনই গল্পের স্বার্থকতা ফিরে পাবে।

প্রশ্ন : এটা কি আপনার লেখা প্রথম নাটক? 

উত্তর : হ্যাঁ! এটি আমার লেখা গল্পের প্রথম দৃশ্যায়ন, তবে অবশ্যই শেষ নয়। আমি প্রতিনিয়তই লিখছি এবং সম্প্রতি আরও তিন‑চারটি নাটকের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে দুটি গল্প কমপ্লিট হয়েছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আমরা ওই গল্পগুলো নিয়েও কাজ শুরু করতে পারব।

প্রশ্ন : একজন লেখক হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলা বেশ কঠিন। গল্পের ভেতরেই নিজের একটি প্রাচীর গেড়ে চরিত্রের ভেতরেই থাকতে চাই।কাগজের পাতায় কিংবা সিনেমার পর্দায় যখন একটা গল্প প্রাণ পায়, তখন মনে হয় আমি একই সঙ্গে হাজারো জীবনকে যাপন করছি। জীবনকে যাপন করার এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই। তাই আমার কোনো শেষ গন্তব্য নেই; আমার গন্তব্য হচ্ছে শব্দ থেকে শব্দে এক অনন্ত যাত্রা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা