মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১১ পিএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৫ পিএম
ছবি: জ্যাজ সিটি সিরিজের পোস্টার।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক অভিনেতা আরিফিন শুভ আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভিন্নধর্মী চরিত্র নির্বাচন ও নিবেদিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ছেন। বাণিজ্যিক ও কনটেন্টনির্ভর দুই ধারার কাজেই সমান স্বচ্ছন্দ এই অভিনেতা নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে কখনোই ছাড় দেন না শুভ। বাস্তবধর্মী গল্পে তার অভিনয় যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই অ্যাকশনধর্মী ও আবেগঘন চরিত্রেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ওটিটি অঙ্গনেও তার অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে। নতুন ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’-তে তার সম্পৃক্ততা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বাংলা ভাষাভাষী শিল্পীদের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌমিক সেন পরিচালিত এবং আরিফিন শুভ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত এই হিন্দি ওয়েবসিরিজ আগামীকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্ম ‘সনি লাইভ’-এ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। মুক্তির আগেই সিরিজটি নিয়ে দর্শকমহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা। বিশেষ করে একজন বাঙালি নির্মাতার পরিচালনায় এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতার উপস্থিতিতে নির্মিত এই আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
‘জ্যাজ সিটি’ মূলত একটি সংগীতনির্ভর ড্রামা সিরিজ, যেখানে শহুরে জীবনের নানা টানাপড়েন, স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠবে ভিন্ন এক আঙ্গিকে। নাম থেকেই বোঝা যায়, গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সংগীতÑ বিশেষ করে জ্যাজ ধারার প্রভাব। তবে এটি কেবল সংগীতের গল্প নয়; বরং সংগীতকে উপজীব্য করে একদল মানুষের জীবনযুদ্ধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আত্ম-অন্বেষণের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
পরিচালক সৌমিক সেন এর আগে বিভিন্ন ভাষায় কাজ করে নিজের স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীর প্রমাণ দিয়েছেন। গল্প বলার ক্ষেত্রে তার ভিজ্যুয়াল স্টাইল, চরিত্র নির্মাণের গভীরতা এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বিনোদনের ভারসাম্য রক্ষা করার দক্ষতা দর্শকদের কাছে প্রশংসিত। ‘জ্যাজ সিটি’-তেও তিনি সেই স্বকীয় ধারাকে বজায় রেখেছেন বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে। সিরিজটির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এটি কেবল একটি সাধারণ ওয়েবসিরিজ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের প্রোডাকশন ভ্যালু ও শক্তিশালী চিত্রনাট্যের সমন্বয়ে নির্মিত একটি বড় আয়োজন।
অন্যদিকে, আরিফিন শুভ এই সিরিজের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে তিনি কেবল আঞ্চলিক গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নন, বরং বৃহত্তর ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরেও সমানভাবে সাবলীল। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরেছেন। এই সিরিজটিতে তার চরিত্রটি একজন প্রতিভাবান কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত সংগীতশিল্পীর, যে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে নানা বাধা ও সম্পর্কের টানাপড়েনের মুখোমুখি হয়। চরিত্রটির আবেগ, জেদ, হতাশা এবং আত্মবিশ্বাসÑ সবকিছুর মিশেলে একটি জটিল ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
সিরিজটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর বহুভাষিক স্ট্রিমিং। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়ও ‘জ্যাজ সিটি’ একযোগে স্ট্রিমিং হবে। ফলে ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শক সহজেই নিজেদের পছন্দের ভাষায় সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন। এই বহুভাষিক উদ্যোগ বর্তমান বৈশ্বিক ওটিটি বাজারে কনটেন্টকে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, সিরিজটির শুটিং হয়েছে ভারতের একাধিক শহরে। নগরজীবনের ব্যস্ততা, রাতের শহরের আলোকমালা, লাইভ মিউজিক পারফরম্যান্সের আবহÑ সব মিলিয়ে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংগীত পরিচালনায়ও থাকছে চমক, যেখানে জ্যাজের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ডের ফিউশন দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।বর্তমানে ওটিটি প্লাটফর্মে কনটেন্টের প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে শক্তিশালী গল্প, মানসম্মত নির্মাণ এবং জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতিই পারে একটি সিরিজকে আলাদা করে তুলতে। সেই দিক থেকে ‘জ্যাজ সিটি’ ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদি গল্প ও অভিনয়ের প্রতিশ্রুতি পর্দায় সফলভাবে প্রতিফলিত হয়, তবে এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত ওয়েবসিরিজে পরিণত হতে পারে।