মাহমুদা বিশ্বাস
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:২৪ পিএম
আর্ট আর কমার্স মিলিয়ে, বড়পর্দার নির্মাতারা এ বছর বেশ ভালো পারফরম্যান্সই দেখিয়েছেন। আর্ট ও কমার্সের দুই ধারাকে মিলিয়ে বড়পর্দায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন একঝাঁক নির্মাতা। রায়হান রাফী, তানিম নূর, শিহাব শাহীন, মেহেদী হাসান হৃদয় বা এম রাহিমদের সিনেমা যেমন বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে, তেমনই লীসা গাজী, তাওকীর ইসলাম বা মাকসুদ হোসেনের সিনেমা মন ভরিয়েছে সমালোচক এবং দর্শকদের। এ বছরের আলোচিত পরিচালকদের নিয়ে থাকছে আজকের প্রতিবেদন।
বাণিজ্যিক ধারায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি রায়হান রাফী। এই বছর তার নির্মিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমা দর্শক টানতে যেমন সফল হয়েছে, তেমনি প্রযোজকদের আস্থা জুগিয়েছে। অ্যাকশন, ইমোশন আর স্টার পাওয়ারÑ সবকিছুর সমন্বয়ে রাফী বুঝিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে মূলধারার সিনেমাকে আধুনিক দর্শকের উপযোগী করে তোলা যায়।
একইভাবে তানিম নূর তার ‘উৎসব’ সিনেমার মাধ্যমে সামাজিক বাস্তবতা ও থ্রিলের মিশেলে আলাদা ছাপ রেখেছেন। গল্প বাছাই আর নির্মাণের কৌশলে তিনি দেখিয়েছেন, বাণিজ্যিক কাঠামোর ভেতর থেকেও শক্ত বক্তব্য দেওয়া সম্ভব। তার কাজগুলো দর্শককে শুধু বিনোদনই দেয়নি, ভাবার খোরাকও জুগিয়েছে।
শিহাব শাহীন এ বছরও নিজের স্বাক্ষর বজায় রেখেছেন। ‘দাগি’ চরিত্রনির্ভর গল্প, সংলাপের শক্তি আর আবেগের সূক্ষ্ম ব্যবহার সব মিলিয়ে তার সিনেমা দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালিত সিনেমা ‘বরবাদ’ ও এম রাহিমের পরিচালিত ‘জংলি’ প্রমাণ করেছে, বড় বাজেট ও জনপ্রিয় তারকাদের নিয়ে নির্মিত সিনেমাও মানসম্মত হতে পারে। তাদের ছবিগুলো বক্স অফিসে সফল হওয়ার পাশাপাশি বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে শিল্প ঘরানার নির্মাতারা এ বছর দর্শক ও সমালোচকদের মন ভরিয়েছেন ভিন্নভাবে। ‘বাড়ির নাম শাহানা’র মাধ্যমে লীসা গাজী তার সংবেদনশীল গল্প বলার ভঙ্গি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার সিনেমাগুলো হয়তো সংখ্যার বিচারে বিশাল নয়। কিন্তু আবেগ ও শিল্পমানের জায়গায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়াও তাওকীর ইসলামের নির্মিত সিনেমা ‘দেলুপি’র মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, শিল্পীসত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে চলতে পারে। তার সিনেমা দর্শককে নীরবে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন তুলেছে, আবার দীর্ঘ সময় মনে থেকে গেছে। একই ধারায় মাকসুদ হোসেন তার নির্মিত সিনেমা ‘ছাবা’র মাধ্যমে সমকালীন বাস্তবতা ও চরিত্রের জটিলতা তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এ বছর নির্মাতাদের কাজে স্পষ্ট বোঝা যায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সিনেমা আর এক ধারায় আটকে নেই। কেউ কমার্শিয়াল ঘরানায় দর্শক টেনেছেন, কেউ শিল্প ঘরানায় সিনেমার ভাষা সমৃদ্ধ করেছেন। এ বছর ছিল পরিচালকদের আত্মপ্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার বছর।