প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
২০০৩ সালে ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে ফরাসি অভিনেত্রী ব্রিজিত বার্দো। ছবি: এএফপি
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব, ফরাসি অভিনেত্রী ও গায়িকা ব্রিজিত বার্দো ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রিজিত বার্দো ফাউন্ডেশন’ রবিবার এক শোকবার্তায় কিংবদন্তি এই তারকার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর স্থান বা কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্যারিসের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯৩৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া বার্দো কিশোরী বয়সেই মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ সিনেমাটি তাকে রাতারাতি বৈশ্বিক ‘সেনসেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। যুদ্ধ-পরবর্তী ফ্রান্সে প্রথাগত নারী চরিত্রের বাইরে বেরিয়ে পর্দায় নারী স্বাধীনতার এক নতুন রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম আইকন।

জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৭৩ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানান বার্দো। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য ছেড়ে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন প্রাণি কল্যাণে। ১৯৮৬ সালে তিনি ‘ব্রিজিত বার্দো ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাণি অধিকার রক্ষায় তার আপসহীন লড়াই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ালেও তার পরবর্তী জীবনের রাজনৈতিক অবস্থান সেই সম্মানে বিতর্কের ছায়া ফেলে।
ব্যক্তিজীবনে বার্দো
হয়ে ওঠেন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির একনিষ্ঠ সমর্থক। ফ্রান্সের অভিবাসীবিরোধী দল ‘ন্যাশনাল
র্যালি’ এবং এর নেত্রী মেরিন ল্য পেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল প্রকাশ্য। বিভিন্ন
সময়ে মুসলিম ও অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ফরাসি আদালত
তাকে ছয়বার দোষী সাব্যস্ত করে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে। ২০২২ সালেও একটি দ্বীপ অঞ্চলের
মানুষকে ‘বন্য’ অভিহিত করায় তাকে ৪০ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র অঙ্গনের
‘মি টু’ আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করেও তিনি নারী অধিকার কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন।
বিতর্ক আর খ্যাতি
যার চিরসঙ্গী ছিল, সেই বার্দোকে তার ফাউন্ডেশন ‘একনিষ্ঠ প্রাণিপ্রেমী’ হিসেবে অভিহিত
করেছে। সমালোচকদের মতে, তিনি একদিকে যেমন পর্দায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, অন্যদিকে তার উগ্র
রাজনৈতিক মন্তব্য সমাজকে বিভক্ত করেছে। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে, বিংশ শতাব্দীর
ফরাসি সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম হিসেবেই চিরস্মরণীয়
হয়ে থাকবেন ব্রিজিত বার্দো।