প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪৩ পিএম
'উজানে মৃত্যু' নাটকের ৭৮ তম প্রদর্শনী
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নাট্যচর্চায় অ্যাবসার্ড ধারার একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে। বাংলাদেশে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ও সাঈদ আহমেদ এবং পশ্চিমবঙ্গে মোহিত চট্টোপাধ্যায় ও বাদল সরকারের সৃষ্টিকর্মে এই ধারার সুস্পষ্ট উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘উজানে মৃত্যু’ তার সর্বশেষ নাটক, যা বাংলা অ্যাবসার্ড নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
অ্যাবসার্ড নাটক সাধারণত ঘটনার উদ্ভটতা, স্থান-কালের অযৌক্তিকতা এবং সংলাপের আপাত অর্থহীনতার মাধ্যমে দর্শককে এক ভিন্নধর্মী দর্শনের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এই অসংগতি ও শৃঙ্খলাহীনতা অনেক সময় দর্শকের কাছে দুর্বোধ্য মনে হলেও এর মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয় মানবজীবনের গভীর সত্য। পালাকার প্রযোজিত মঞ্চনাটক ‘উজানে মৃত্যু’ সেই প্রমাণই দেয়, যেখানে বিমূর্ত দর্শন গল্পগাঁথা ও মানবজীবনকেন্দ্রিক উপস্থাপনায় রূপ নেয়। তিনটি প্রতীকী চরিত্রের অনিশ্চিত ও অস্তিত্বহীন যাত্রার ভেতর দিয়ে নাটকটি জীবনের অর্থ, সংগ্রাম ও শূন্যতার অনুসন্ধান করে।
বিশ্ব নাট্যধারায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে অ্যাবসার্ড নাটকের জন্ম। উদ্ভট বাস্তবতা, পরম্পরাহীন কাহিনী, কার্যকারণবিহীন সংলাপ ও পরিণামহীনতা এই ধারার মূল বৈশিষ্ট্য। পাশ্চাত্যে ইউজিন আয়োনেস্কো, স্যামুয়েল বেকেট ও জাঁ জেন এই ধারার পথিকৃৎ। বিশেষ করে বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ অ্যাবসার্ড নাটকের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এই অস্তিত্ববাদী নাটকটি মঞ্চে এনেছে দেশের অন্যতম পরিশ্রমী নাট্যদল পালাকার। নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। নাটকটির ৭৮ তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আজ।
পালাকারের এই প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন আমিনুর রহমান মুকুল, চারু পিন্টু, কাজী ফয়সালসহ অনেকে। আজ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হবে ‘উজানে মৃত্যু’, যা দর্শকদের জন্য এক গভীর ও মানবিক নাট্য অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।