প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪২ পিএম
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতামনোয়ার হোসেন ডিপজলের পরিবারের সদস্যরা। ছবি : ফেসবুক
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রযোজক ও রাজনীতিবিদ মনোয়ার হোসেন ডিপজল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলমান বিতর্ক ও অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, একটি মহল তার বোনদের ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘রক্তের সম্পর্ক নিয়ে, মা–বাবার নাম জড়িয়ে প্রকাশ্যে মিথ্যাচার করা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক—তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বোঝে। সারা দেশে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে।’
সম্প্রতি গণমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে, মায়ের মৃত্যুর পর ডিপজল ও তার ভাই বোনদের খোঁজ রাখেননি। এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ডিপজল বলেন, ‘আমাদের বড় ভাই ইন্তেকাল করেছেন। এখনও আমরা দুই ভাই বেঁচে আছি। আমি এককভাবেই সবসময় আমার বোনদের খোঁজখবর রেখেছি। অথচ মিডিয়াতে এসে বলা হচ্ছে—মা মারা যাওয়ার পর আমরা নাকি কোনো খোঁজ রাখিনি।’
নিজের সন্তানদের নিয়েও মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—আমার সন্তানদের নিয়েও মিথ্যা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে তারা নাকি তাদের খালা-ফুপুদের চিনেই না। একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।’
মায়ের চিকিৎসার বিষয়ে নিজের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে ডিপজল বলেন, ‘মা জীবিত থাকাকালীন সময়েও, যখন অনেকেই পাশে ছিলেন না, তখন আমি মাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তায় রেখেছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ব্যাংকক নিয়ে গেছি। মায়ের চিকিৎসা, যত্ন ও মানসিক শান্তির বিষয়ে আমি কখনো কোনো আপস করিনি।’
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মা ইন্তেকাল করার পর তার বোনেরাই বরং কোনো খোঁজ রাখেননি এবং তিনি একাই জানাজা ও দাফনের যাবতীয় খরচ বহন করেছেন।
ভাগনে প্রিন্সের ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমার বোনের ছেলে প্রিন্স যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, তখন আত্মীয়তার দায় থেকে আমি মুখ ফিরিয়ে নেইনি। ম্যানেজারের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছি। আমার মেয়ে অলিজা সশরীরে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অথচ সুস্থ হয়ে সেই প্রিন্সই এখন মিথ্যা অপপ্রচারে জড়াচ্ছে।’
খুব শীঘ্রই এসব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ হাজির হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই সবকিছু প্রমাণসহ সোশাল মিডিয়াতে তুলে ধরা হবে। সত্য চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না। দেশবাসীই বিচার করবেন—কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা।’