প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৫৫ পিএম
এক রাতে নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে খুন হয় সাংবাদিক দম্পতি অর্ণব ও নিরু। কে বা কারা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাল? কী ছিল তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য? এই অমীমাংসিত রহস্যকে কেন্দ্র করে নির্মাতা রায়হান রাফী তৈরি করেছেন থ্রিলারধর্মী ওয়েবফিল্ম ‘অমীমাংসিত’। দীর্ঘদিন আগে শুটিং শেষ হলেও নানা জটিলতায় আটকে ছিল মুক্তি।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। বহু প্রতীক্ষার পর আগামী ডিসেম্বরে ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা মুক্তির পরপরই এই সিনেমার শুটিং শুরু করেছিলেন পরিচালক রাফী। গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও তৎকালীন সেন্সর বোর্ডের আপত্তিতে তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সেই জট কেটে গেছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে ৪ ডিসেম্বর দর্শকরা দেখতে পাবেন রহস্যে ঘেরা ‘অমীমাংসিত’। সিনেমার দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও তানজিকা আমিন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আছেন, তবে পোস্টার ও টিজারে তাদের মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেন গল্পের রহস্য আরও ঘনীভূত করতে চেয়েছেন নির্মাতা। শুটিং শুরুর পর জানা গিয়েছিল, অমীমাংসিত তৈরি হচ্ছে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার গল্প নিয়ে। তখনই অনেকে ধারণা করেছিলেন, এটি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের গল্প। টিজার প্রকাশের পর সেই ধারণা আরও স্পষ্ট হয়। ৪০ সেকেন্ডের টিজারে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখিত সংলাপ আকারে তুলে ধরা হয়েছেÑ ‘খুনগুলো হয়েছে আনুমানিক রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে। ধারণা করছি, এটা কোনো চুরি-ডাকাতির কেস...’, ‘সাংবাদিক, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাই ক্রাইম জোনের আলামত নষ্ট করেছে। আমার করার কী ছিল’, ‘ওদের কেউ মারেনি। ওরা নিজেরাই নিজেদের খুন করেছে’, ‘এটা নিশ্চিত পরকীয়া কেস! নইলে সেদিন...’। টিজার প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে তৎকালীন সেন্সর বোর্ড। জানিয়ে দেওয়া হয়, ওটিটি কনটেন্ট হলেও এটি মুক্তির জন্য সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিতে হবে। দুই দফা দেখার পর গত বছর এপ্রিলে সেন্সর বোর্ড জানিয়ে দেয়, সিনেমাটি প্রদর্শনীর যোগ্য নয়।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত করে গঠন করা হয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। এরপর অমীমাংসিতসহ আটকে থাকা সিনেমাগুলো খুঁজে পায় আশার আলো। ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আপিল করে অমীমাংসিত সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তির অনুমতি পায় সিনেমাটি।
অমীমাংসিত আসলেই সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না পরিচালক বা প্রযোজক। অন্যদিকে সেন্সর বোর্ডের আটকে দেওয়ার ঘটনা দর্শকের মনে জাগিয়েছে প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে এবার, ডিসেম্বরে সিনেমা মুক্তির পর।