প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২০ পিএম
দেনা পাওনা নাটকের দর্শক চাহিদার কারণে ধারাবাহিকের পর্বসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
এক সময়ের টেলিভিশন নাটক মানেই ছিল পরিবারকেন্দ্রিক গল্প। সেখানে কেবল নায়ক-নায়িকা নয়, বরং পুরো পরিবারই ছিল গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফু কিংবা পাড়ার বন্ধু-প্রতিবেশীÑ সবাই মিলে গড়ে তুলত এক জীবন্ত সমাজের প্রতিচ্ছবি। সেই নাটকগুলোয় হাসি-কান্না, টানাপড়েন, ভালোবাসা ও সম্পর্কের উষ্ণতা ছড়িয়ে থাকত পরতে পরতে।
এখন অবশ্য দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। সমসাময়িক নাটকে নায়ক-নায়িকার গল্পই হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ। পার্শ্বচরিত্রের পরিধি সঙ্কুচিত, পারিবারিক আবহও অনেকটাই হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের এমনই অভিযোগÑ নাটক যেন এখন সম্পর্কের নয়, রোমান্সের গল্পে আটকে পড়েছে।
দর্শকরা আজও সোনালি যুগের নাটকগুলো মনে রেখেছেন- ‘অয়োময়’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘সকাল-সন্ধ্যা’, ‘রূপনগর’ কিংবা ‘বন্ধন’ প্রতিটি নাটকই ছিল একেকটি সময়ের দলিল। তখন টেলিভিশনের সামনে বসে পুরো পরিবার একসঙ্গে নাটক দেখত, চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেত।
নাট্যজন আতাউর রহমান বলেছিলেন, ‘পরিবার, সমাজ নিয়েই তো মানুষের জীবন। এজন্য দর্শক বরাবরই পারিবারিক ও সামাজিক গল্পের নাটক দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটা সময় তাই ছিল। পারিবারিক ও সামাজিক গল্পের চমৎকার নাটক তৈরি হতো। এখন এসব অতীত।’
সেই সোনালি সময় আজ অনেকটা অতীতের পাতা হয়ে গেছে। এখনকার নাটকে প্রযুক্তি আর গ্ল্যামারের ঝলক বাড়লেও, পরিবার ও সম্পর্কের গল্পে যে মানবিক উষ্ণতা ছিলÑ তা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।
তবে এরপরও পারিবারিক গল্পের বেশকিছু নাটক সারা ফেলেছে। গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছিল অনেকগুলো নাটক। তার মধ্যে ছিল কয়েকটি পারিবারিক গল্পের নাটক। ‘তোমাদের গল্প’ ও ‘একান্নবর্তী’ নামের নাটক দুটি বেশ দর্শক সমাদৃত হয়েছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘তোমাদের গল্প’ নাটকের গল্পে যৌথ পরিবারের মাঝে বন্ধন অটুট থাকার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ‘একান্নবর্তী’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন মহিন খান। এতেও উঠে এসেছে একান্নবর্তী পরিবারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গল্প। আলোচনার পাশাপাশি নাটকগুলো ছিল ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে।
এবার মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নিয়ে এসেছেন পারিবারিক গল্পে লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে এই ধারাবাহিকের নতুন পর্ব। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑ ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ। নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ জানান, এটা আমাদের গল্প ধারাবাহিকটিতে পারিবারিক বন্ধন আর সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজের মূল শক্তি হলো পরিবার। আমি বিশ্বাস করি, পরিবারকে কেন্দ্র করে বলা গল্পগুলো দর্শকের হৃদয়ে সব সময় গভীরভাবে দাগ কাটে। তাই এই সিরিজের ট্যাগলাইন রেখেছি ‘পরিবারই শুরু, পরিবারই শেষ’।
এনটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে গোলাম মুক্তাদিরের ধারাবাহিক নাটক ‘কাজিনস’। মাসতুতো ভাই-বোনদের প্রসঙ্গ ধরে একান্নবর্তী পরিবারের গল্প বলছেন তিনি। গত বছরের শেষ দিকে কেএম সোহাগ রানা শুরু করেন ‘দেনা পাওনা’ নামের ধারাবাহিকের কাজ। শুরুতে ইউটিউবে ৮ পর্বের মিনি সিরিজ হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও দিনে দিনে বাড়ছে ধারাবাহিকটির পর্বসংখ্যা। দেনা পাওনা নাটকের গল্পে দেখা যায়, পড়ালেখা শেষ করার পর মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায় আসে খায়রুল। তবে খায়রুলকে তার ভাই ও ভাবি পছন্দ করে না। ভাইয়ের শাশুড়িও চায় না সে ভাইয়ের বাসায় থাকুক। এদিকে খায়রুলকে পছন্দ করে ফেলে তার বেয়াইন নিপা। এভাবেই জীবনের নিত্যদিনের গল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেনা পাওনার গল্প। দেনা পাওনা নাটকে খায়রুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যালেন শুভ্র। চরিত্রটি বেশ সাড়া ফেলেছে। আরও অভিনয় করছেন- শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা মিঠু, এজাজুল ইসলাম, শিল্পী সরকার অপু, মুসাফির সৈয়দ বাচ্চু, সুষমা সরকার, এমএনইউ রাজু, এবি রোকন, অনিক প্রমুখ। দর্শক চাহিদার কারণেই ধারাবাহিকের পর্বসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্মাতা। সোহাগ রানা বলেন, ‘দেনা পাওনা নাটক থেকে দর্শকের যে ভালোবাসা পাচ্ছি তাতে অভিভূত। পরিবারের গল্প বলেই হয়তো দর্শক সহজে কানেক্ট করতে পারছেন। নাটকের প্রতিটি চরিত্রকে তারা আপন করে নিয়েছেন।’ দেনা পাওনা ১ নভেম্বর থেকে প্রতি শনি ও রবিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত হচ্ছে।
এ ছাড়া গত এক বছরে পারিবারিক গল্পে জনপ্রিয়তা পাওয়া নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোÑ ‘মামার বাড়ি’, ‘আত্মীয়’, ‘একান্নবর্তী’, ‘উত্তরাধিকার’ ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ধারাবাহিক নাটকেও পরিবারের উপস্থিতি বেড়েছে। যেমনÑ বিটিভিতে ‘ধূসর প্রজাপতি’, মাছরাঙায় ‘শাদী মোবারক’, দীপ্ত টিভিতে ‘রূপনগর’, এনটিভিতে ‘৭ কিলো ১ গ্রাম’।