প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৫ ১২:৪৯ পিএম
আলোচনায় ছিল ঈদকেন্দ্রিক সিনেমাগুলো
২০২৫ সাল শুরু হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য একরাশ নতুন আশার আলো নিয়ে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, মুক্তি পেয়েছে ২২টি সিনেমা। এর মধ্যে দুই ঈদেই এসেছে ১২টি সিনেমা, বাকিগুলো অন্যান্য সময়ের। ২০২৪ সালে পুরো বছরে মুক্তি পেয়েছিল ৫২টি চলচ্চিত্র। ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা ছিল আলোচনায় তবে অন্য সময়ে সে ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। কিছু সিনেমা হলে এসে কেবল দুই-তিন সপ্তাহ টিকে থেকে বিদায় নিয়েছে নীরবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল সংখ্যা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির স্বাস্থ্য বোঝা যায় না। আলোচনার ঝড়, দর্শকের ঢল, প্রেক্ষাগৃহে ধারাবাহিকতা- এ সবই শিল্পের প্রাণ। আর সেখানে ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রি এখনও অনেকখানি পেছনে। তবে বছর এখনও শেষ হয়নি। বাকি ছয় মাসে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট।
জানুয়ারিতে মুক্তি পায় চার সিনেমা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকাই সিনেমা নতুন যাত্রা শুরু করেছিল চারটি সিনেমা দিয়ে। তবে মাসজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে পারেনি কোনো ছবিই। সালটি শুরু হয় তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ দিয়ে, যেখানে অভিনয় করেছেন শিশির সরদার ও এলিনা শাম্মি। প্রত্যাশার জায়গা থাকলেও মুক্তির পর খুব দ্রুতই ছবিটি হারিয়ে যায় আলোচনার বাইরে। এরপর মুক্তি পায় দুটি ভিন্ন ধারার ছবিÑ অনন্য মামুনের ‘মেকাপ’ এবং আব্দুল হান্নানের ‘কিশোর গ্যাং’। দুটির ক্ষেত্রেই প্রচারণার ঘাটতি এবং কনটেন্ট দুর্বলতার কারণে তেমন কোনো সাড়া পড়েনি।
মাসের শেষ সপ্তাহে মুক্তি পায় অমিতাভ রেজা চৌধুরীর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রিকশা গার্ল’। ছবিটির গল্পে মূল ভূমিকায় ছিলেন নভেরা আহমেদ। যদিও বক্স অফিসে এটি লক্ষণীয় আয় করতে পারেনি, তবে নির্মাণশৈলী, শিল্পনির্দেশনা ও অভিনয়ের জন্য ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
ফেব্রুয়ারিতে চার সিনেমা
বছরের দ্বিতীয় মাসে মুক্তি পায় নাসির উদ্দিন খানের ‘বলি’ ও সাইমন সাদিক অভিনীত ‘দায়মুক্তি’। দুটি সিনেমার ভাগ্যেই জোটে ফ্লপ তকমা। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা ও এফ এস নাঈম ‘জলে জ্বলে তারা’ নিয়ে। সিনেমাটি সেভাবে সুবিধা করতে না পারলেও কিছুদিন আলোচনায় ছিল। রাজ রিপা ও কায়েস আরজু অভিনীত ‘ময়না’ দর্শক আগ্রহ না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মার্চে ছয় সিনেমা
মার্চে এসে সিনেমা মুক্তির হিড়িক পড়ে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পায় একাধিক সিনেমা। এ মাসের বেশকিছু সিনেমা ছিল আলোচনায় ও ইন্ডাস্ট্রি হিট। এগুলোর মধ্যে শাকিব খান ও ইধিকা পাল অভিনীত ‘বরবাদ’ ছিল আলোচনায়। ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়। নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের দাবি, সিনেমাটির বাজেট ছিল ১৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ৫০ দিনে ৭৫ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। এরপর আলোচনায় আসে আফরান নিশো ও তমা মির্জা অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’। শিহাব শাহীনের পরিচালনা দ্বিতীয়বার জুটি বাঁধেন তারা এবং প্রশংসিতও হন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সিনেমাটির সর্বমোট গ্রস সেল ১০ কোটি টাকা।
আলোচিত সিনেমার আরও একটি হচ্ছে ‘জংলি’। এতে অভিনয় করেন সিয়াম আহমেদ ও শবনম বুবলী। সিনেমা-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। ঈদের আলোচিত সিনেমার মধ্যে অন্যটি হচ্ছে মোশাররফ করিম অভিনীত ‘চক্কর ৩০২’। এ ছাড়া ঈদের সিনেমার অন্য দুটি সিনেমা আব্দুন নূর সজল ও নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘জ্বীন-৩’ ও শাকিব খান অভিনীত ‘অন্তরাত্মা’ ফ্লপ তকমা গায়ে জড়ায়। এরপর এপ্রিল মাসে কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।
মে মাসে দুই সিনেমা
এ মাসেই জয়া আহসান অভিনীত সিনেমা ‘জয়া আর শারমিন’ মুক্তি পায়। করোনাকালীন গল্প নিয়ে নির্মিত এ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। একই সপ্তাহে নীরবে মুক্তি পায় ‘আন্তুঃনগর’ নামে আরও একটি সিনেমা। কিন্তু ব্যবসায়িকভাবে ছিল একেবারে ফ্লপ।

জুনে ছয় সিনেমা
বছরের ষষ্ঠ মাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি পায় ছয়টি সিনেমা। আলোচনায় ছিল শাকিব খান ও সাবিলা নূর অভিনীত সিনেমা ‘তাণ্ডব’। ছিল জয়ার উপস্থিতি। ইন্ডাস্ট্রি হিট সিনেমাটি মুক্তির ৩০তম দিনে এখনও শো চলেছে ১০টি। ত্রিশ দিন শেষে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস ১০.৩৫ কোটি টাকা।

এদিকে ‘উৎসব’ সিনেমাটি মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ‘তাণ্ডব’কে পাশ কাটিয়ে দর্শকচাহিদা ও গ্রস সেলে এগিয়ে রয়েছে। সিনেমাটি বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সাদিয়া আয়মান প্রমুখ। এখন মাল্টিপ্লেক্সে এ সিনেমাটির সবচেয়ে বেশি হাউসফুল শো যাচ্ছে। এদিকে মুক্তির দিন থেকে দুই সপ্তাহ আলোচনায় ছিল তাসনিয়া ফারিণ ও শরিফুল রাজ অভিনীত ‘ইনসাফ’ সিনেমাটি। আলোচনায় আছে আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’ সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকে এটি নিয়ে তেমন আলোচনা ছিল না। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে এটির প্রচারণা জোরদার হওয়াতে দর্শক আগ্রহ বাড়ে। ব্যবসায়িকভাবে এটিও সফল নয়। অন্যদিকে আরেফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তী অভিনীত ‘নীলচক্র’ এবং আদর আজাদ ও পূজা চেরীর ‘টগর’ সিনেমা দুটি প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।