প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:২৬ পিএম
ঈদের সিনেমাগুলোয় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে আলাদা করে নজর কেড়েছেন অনেকেই
নায়করা সব সময় আলোয় থাকেন, কিন্তু ঈদে মুক্তি পাওয়া বাংলা সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতারাও এবার আলোচনায়। সাধারণত তাদের উপস্থিতি উপেক্ষিত থেকে যায়, কিন্তু এবার তাদের অভিনয় যেমন দর্শকের চোখে লেগে থেকেছে, তেমন সমালোচকদেরও দৃষ্টি কেড়েছে। এবার দেখে নেওয়া যাক ঈদের সিনেমাগুলোয় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে যারা আলাদা করে নজর কেড়েছেন-
শহীদুজ্জামান সেলিম
সেলিম বরাবরই দক্ষ অভিনেতা, তবে অনেক সময় তার চরিত্রগুলো হয়ে পড়ে একঘেয়ে। এবার তিনি হাজির হয়েছেন তিনটি ভিন্ন সিনেমা বরবাদ, দাগি ও জংলিতে। বরবাদ ও জংলিতে ছিলেন আইনজীবীর চরিত্রে, কিন্তু দাগিতে একেবারে অন্য রূপে, একজন ভারতীয় চোরাকারবারি। হিন্দি-বাংলা মেশানো সংলাপে আর খলচরিত্রে তার অভিনয়ে এসেছে নতুনত্ব, দর্শকের কাছেও চরিত্রটি হয়েছে বিশ্বাসযোগ্য।

সুনেরাহ বিনতে কামাল
দাগির সবচেয়ে নীরব কিন্তু প্রভাবশালী উপস্থিতি ছিল সুনেরাহর। কথা বলতে না-পারা ‘লিখন’ চরিত্রে তিনি শুধু চোখের ভাষায় দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এ চরিত্র তার অভিনয়জীবনে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। ‘অন্তর্জাল’-এর গ্ল্যামারাস লুকে দেখা সুনেরাহ এখানে সম্পূর্ণ উল্টো। পর্দায় তিনি প্রমাণ করেছেন সংলাপ ছাড়াও একজন অভিনেত্রী কতটা প্রকাশক্ষম হতে পারেন।

রাজীব সালেহীন
দাগির আরেক বাস্তবধর্মী চরিত্র ছিল ‘বাবু’, যেটি ফুটিয়ে তুলেছেন রাজীব সালেহীন। মফস্বলের সহজসরল এক যুবকের ভূমিকায় তিনি যেমন ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত, তেমন ছিলেন চরিত্রসঞ্জাত। এ চরিত্রটি সিনেমায় হাসি-আনন্দের পাশাপাশি এনে দিয়েছে একটা আবেগের পরত।
স্যাম ভট্টাচার্য
ভারতীয় অভিনেতা হলেও বরবাদ সিনেমায় তিনি হয়ে উঠেছেন দর্শকের চেনা নাম ‘জিল্লু’। শাকিব খানের সহকারী হিসেবে তার উপস্থিতি ছিল সিনেমার অন্যতম মজার দিক। ‘জিল্লু, মাল দে’ সংলাপটি ইতোমধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। শাকিবের সঙ্গে তার রসায়ন সিনেমায় এনে দিয়েছে প্রাণ, আর চরিত্রটি সিনেমা শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে রয়ে গেছে।

নৈঋতা হাসিন রৌদ্রময়ী
জংলি সিনেমার ছোট্ট কিন্তু হৃদয়স্পর্শী চরিত্র ‘পাখি’ হয়ে মন ছুঁয়েছেন নৈঋতা। বাবার ভালোবাসা পেতে মরিয়া এ মেয়েটি তার চোখে-মুখে ফুটিয়ে তুলেছেন অসংখ্য না-বলা কথা। তার প্রতিটি দৃশ্যই দর্শককে টেনে নিয়ে গেছে অনুভবের গভীরে। সিনেমার শেষ দিকে তার জন্য দর্শকের চোখ ভিজে ওঠা একেবারে অনিবার্য।
এবারের ঈদে বাংলা সিনেমার পার্শ্বচরিত্রগুলো যেন হয়ে উঠেছে নায়ক-নায়িকার সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ অভিনয়শিল্পীদের কারণে সিনেমাগুলো পেয়েছে আরও গভীরতা, আরও প্রাণ।