× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আলাপন

কাজটা জটিল হলেও অসুবিধা হয়নি

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:০৯ এএম

কুসুম সিকদার

কুসুম সিকদার

আড়াল ভেঙে ফিরছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কুসুম সিকদার। তবে নতুন পরিচয়ে, নতুন ভূমিকায়। হাতেখড়ি হলো পরিচালনায়। নিজের ছোটগল্প অবলম্বনে বানিয়েছেন ‘শরতের জবা’ নামে একটি চলচ্চিত্র। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিজেই। আসন্ন দুর্গাপূজায় মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মাঝেই কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। জানিয়েছেন ক্যামেরার সামনে ও পেছনে কাজের অভিজ্ঞতার কথা। শুনেছেন রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণÑ

আপনি একাধারে মডেল, অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী।এবার সিনেমা নির্মাণ করলেন। এ আগ্রহটা কীভাবে জন্মাল?

তাম্রলিপি প্রকাশনা থেকে ২০২১ সালে কোভিডের সময় বইমেলায় ‘অজাগতিক ছায়া’ নামে আমার একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তখন অল্প দিন বইমেলা ছিল। পরের বছর এর দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। বইয়ের একটি গল্পের নাম ছিল ‘শরতের জবা’, যেটি আরও আগে ডেইলি স্টারের ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় পড়ে পাঠক ভালো ফিডব্যাক দিয়েছিলেন। পরে বই কিনে পড়া পাঠকও গল্পটির প্রশংসা করেছিলেন। তখন মনে হলো গল্পটা নিয়ে কাজ করা যায়। যেহেতু আমি অভিনয় থেকে ছয় বছর দূরে।

ছোটগল্প সিনেমার আঙ্গিকে রূপ দেওয়া কতটা সহজ ছিল?

স্ক্রিনপ্লে সম্পূর্ণ আমার লেখা। যেহেতু গল্প আমারই লেখা, তাই তেমন একটা অসুবিধা হয়নি। কিন্তু কাজটা জটিল ছিল। কিছু সিকোয়েন্স অ্যাড করতে হয়েছে, যেগুলো গল্পে ছিল না। এন্ডিংটাও পরিবর্তন করেছি। গল্পের সঙ্গে সিনেমার তো কিছু পার্থক্য থাকেই।

অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইÑ

কঠিন এক অভিজ্ঞতা। তবে সিনেমাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে আমি যাদের সাপোর্ট পেয়েছি তাদের কথা না বললেই নয়। ডিওপি খায়ের খন্দকার আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। ১৫-১৮ দিন না ঘুমিয়ে কাজ করেছি। উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে সুমন ধর ছিলেন। ছয় বছর পর অভিনয় করেছি। তাই খানিকটা সংশয়ে ছিলাম ভালো হচ্ছে কি না! আমার মাথায় তো তখন প্রচুর লোড। প্রোডাকশন, ডিরেকশনÑদুটিই সামলাতে হচ্ছিল। সুমন ধর, খায়ের খন্দকারসহ আমার পুরো টিমের সহযোগিতায় কাজটি করতে পেরেছি। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ কিছুই জানতাম না। একটু একটু করে শিখেছি। ভুল হয়েছে। আবার সে ভুল শুধরে করেছি। কালার গ্রেডিং, এডিটিং, সাউন্ড ইফেক্ট ইত্যাদি সব করেছি। আল্টিমেটলি আমি এখন পরিপূর্ণ পরিচালক।

বিশেষ কী শিখলেন সিনেমা বানাতে গিয়ে?

প্রযোজনা বেশ ভালোভাবে শিখেছি। প্রথম সিনেমা বলে কেউ কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিথ্যা বলব না, অনেকে সুযোগ নিয়েছেন। টাকা কিছু অপচয়ও হয়েছে। এক জায়গায় দুবার পে করতে হয়েছে। ৩ লাখের জায়গায় ৬ লাখ দিয়েছি। এসব কষ্ট তো আছেই। এ ছাড়া একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করলে কেউ সাহায্য করেন; কেউবা বদনাম করেন। যতই নামকরা অভিনেত্রী হই না কেন, একা একটা মেয়ের ক্ষেত্রে এতগুলো কাজ করা কঠিন। অভিনয় আর পরিচালনাÑদুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গা। অভিনয়ে ইনভলভ্‌মেন্ট অনেক কম। গেলাম, অভিনয় করলাম, চলে এলাম। পরিচালক হিসেবে পুরো টিম সামলে কাজ শেষ করা যুদ্ধ জয় করার মতো।

আপনার কথার সূত্র ধরেই জানতে চাইÑছয় বছর পর অভিনয়ে ফেরাটা বড্ড দেরি হয়ে গেল কি না?

আমি যদি নিজের গল্প থেকে এ সিনেমাটি না বানাতাম, অভিনয় না করতাম তাহলে হয়তো আর কোনো কাজই করতাম না। ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পরই তো কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

কারণ জানতে পারি?

দেখুন, আমি এখনও নিয়মিত কাজের প্রস্তাব পাই। কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিই। আর অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ অনেকেই জানতে চান, কিন্তু আমি ব্যক্তিগত বিষয়টা কাউকে জানাতে চাই না। তবে নিশ্চয়ই একটা বড় কারণ আছে।

নিজের ছোটগল্পেই সিনেমা বানালেন। ঝুঁকি হয়ে গেল না?

শুরুতেই বলেছি, ‘শরতের জবা’ গল্পটি পাঠক পছন্দ করেছেন। সেই কনফিডেন্স থেকেই এটা নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সাহস পাই। তবে এটা ঠিক, ফিল্ম পছন্দ না-ও করতে পারেন।

যেহেতু আপনি প্রযোজকও, পরিবেশকদের মোকাবিলা করাও তো নতুন আপনার জন্যÑ

এখনও ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে কথা হয়নি আমার। আশা করছি দুর্গাপূজায় মুক্তি দিতে পারব। যেহেতু আগের কঠিন কাজগুলো সফলতার সঙ্গে উতরে গিয়েছি, সেহেতু শেষধাপে সমস্যা হবে না বলে মনে করি।

সিনেমাটি দর্শক কেন দেখবেন?

টিজার, ট্রেলার আর গান দেখে মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন তারা সিনেমাটি দেখবেন কি না। একটা ভালো গল্প আছে এতে। সেদিক থেকে পজিটিভ কিছু আশা করছি।

পরিচালনায় কি নিয়মিত হবেন?

বলতে পারছি না। এ সিনেমাটি বানাতে অনেক কষ্ট ভোগ করেছি। সব একা হাতে করতে হয়েছে। অবশ্যই এতে আমার টিম সাহায্য করেছে। তবে ‘শরতের জবা’র ওপর নির্ভর করছে পরিচালনায় নিয়মিত হব কি না!

অভিনয় নাকি পরিচালনাÑ কোনটা কঠিন?

দুটিই কঠিন। কিন্তু ক্ষেত্রটা ভিন্ন। একটিতে চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে হয়। আরেকটিতে সব ম্যানেজ করার পাশাপাশি অন্যের অভিনয় বের করে আনতে হয়।

গল্পের প্রয়োজনেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণ?

আমি নিজে এটা একদমই করতেই চাইনি। এখানে দুজন ভাইটাল নারী ক্যারেক্টার আছেÑজবা আর বেলি। দুটিই ফুলের নাম। আমি প্রথমে বেলি খুঁজছিলাম। তাকে খুঁজতে গিয়ে এক মাস পেরিয়ে গেছে। ভাবলাম বেলি খুঁজতেই যখন এত কষ্ট হচ্ছে, তখন জবা আমি নিজেই করি।

নিদ্রা দে নেহা অভিনয় করেছেন বেলি চরিত্রে। তার অভিনয়ে সন্তুষ্ট?

নিদ্রা ওটিটিতে কাজ করেন। টিভিসিও করেছেন। অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। বড়পর্দায় মুক্তি পেলে এটা হবে তার প্রথম সিনেমা। এক কথায় বলতে গেলে, তার অভিনয়ে আমি সন্তুষ্ট। দর্শকেরও ভালো লাগবে তার অভিনয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা