প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম
মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হিন্দি সিনেমা চালানোর বিপক্ষে কিছুদিন আগেও সোচ্চার ছিলেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সিনেমা আমদানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন শক্তভাবে। এমনকি প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও শুনিয়েছেন। সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরও নিজের এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। বলেছেন, হিন্দি সিনেমা ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।
কিন্তু হুট করে সুর বদলে গেছে ডিপজলের। কদিন আগেও যিনি হিন্দি সিনেমার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে ছিলেন তিনি, এখন ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে যেসব কথা বলছেনÑ তা আদতে হিন্দি সিনেমার পক্ষে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ডিপজলের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলচ্চিত্র জগতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
‘আমরা হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে না। হিন্দি সিনেমা যেন আমদানি না হয়, সেই চেষ্টা করব। হিন্দি সংস্কৃতি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির জন্য খারাপ। হিন্দি সিনেমা আমদানি অব্যাহত থাকলে দেশীয় চলচ্চিত্র মুখ থুবড়ে পড়বে’- মাত্র তিন মাস আগেই এক অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেছেন ডিপজল। সেই ডিপজলই গত শনিবার চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘সিনেমা হল বাঁচানোর জন্য হিন্দি সিনেমা দেশে এলে অসুবিধা নেই। আমি সবসময় আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করি। হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর, তবে এখন হলও বাঁচাতে হবে। তাই আপাতত সবার সঙ্গে আমিও একমত, হিন্দি সিনেমা আসুক।’ তবে একই সঙ্গে দেশীয় নির্মাতাদেরও ভালো সিনেমা নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন শিল্পিী সমিতির এই সাধারণ সম্পাদক।
ওই অনুষ্ঠানে ডিপজল আরও বলেন, ‘৮০টি সিনেমা হল দিয়ে আমাদের চলবে না। আমরা সবাই মিলে সিনেমা হল যদি করি। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে তিনশ-সাড়ে তিনশ সিনেমা হল করা যাবে। এ জন্য আমি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে হেমায়েতপুরে মাল্টিস্টেরয়েড বিল্ডিং হবে, সেখানে মাল্টিপ্লেক্স চালু হবে। দ্রুতই এর কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি পর্বত ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেখানে তিনটি স্ক্রিন হবে। আর দুই বা তিন বছর পর এশিয়াও ভেঙে ফেলব, সেখানে মাল্টিপ্লেক্স চালুর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে হলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। তবে শুধু সিনেমা হল হলেই হবে না, ছবিও বানাতে হবে।’