প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১২:৫৩ পিএম
সালমান খান। ছবি : সংগৃহীত
ঝুট-ঝামেলা পিছু ছাড়ছে না সালমান খানের। কয়েক দিন আগেই তার বাড়িতে হামলা চালায় কুখ্যাত সন্ত্রাসীবাহিনী বিষ্ণোই গ্যাং। এবার বলিউড ভাইজানের পানভেলের বাগানবাড়িতে এসে হাজির এক তরুণী। যিনি সালমান খানকে বিয়ের দাবিতে অনড়। বিয়ে না করে তিনি নাকি কিছুতেই পানভিল ছেড়ে যাবেন না। খবর ছড়াতেই হাজির হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই তরুণীকে শেষ পর্যন্ত তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। গত রবিবারের দিকে এ ঘটনা জানাজানির পর প্রশ্ন উঠেছে এটা সালমানকে খুন করার নতুন ষড়যন্ত্র নয় তো?
যদিও পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ২৪ বছর বয়সি ওই তরুণী জানান, তিনি সালমানের অন্ধভক্ত। অনেক দিনের স্বপ্ন, নায়ককে বিয়ে করবেন। তিনি সালমানের দাতব্য সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর সমর্থক। স্বপ্নের নায়ককে বিয়ে করতেই নাকি পানভিলে এসেছেন। নিজের ইচ্ছা সফল না করে যাবেন না। খামারবাড়িতে ঢুকতে না পেরে তিনি নাকি বাড়ির সামনেই বসে পড়েন। হট্টগোল শুরু করে দেন। এরপরই খবর পেয়ে পুলিশ আসে। তাকে আটক করে নিয়ে যায় পানভিলের তালুকা থানায়। সেখান থেকে ওই যুবতীকে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় এখনও সালমান খানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারণ ঘটনার সময় তিনি ওই বাড়িতে ছিলেন না সালমান। আম্বানিদের দ্বিতীয় প্রি-ওয়েডিং পার্টিতে ব্যস্ত আছেন তিনি। ক্রুজে চড়ে বলিউডের অন্য তারকাদের সঙ্গে তিনিও গেছেন ইতালি থেকে ফ্রান্সের দক্ষিণে।
শোনা যাচ্ছে, মানসিক চিকিৎসার জন্য ওই তরুণী কালাম্বলির এমজিএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে মেয়েটির মাকেও দিল্লি থেকে মুম্বাই আসতে বলা হয়। এতে পরিবার চিন্তিত। কারণ মেয়েটি দিল্লি থেকে একা এসেছে মুম্বাইতে! ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর, সেখান থেকে ওই যুবতীকে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার কাউন্সেলিং হবে।
এই তরুণীর কাণ্ডের পর নতুন করে আবার সালমানকে হত্যা ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার সালমান খানকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল ভোরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় অভিনেতার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গুলি চালিয়েই পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। তারপর থেকে নড়েচড়ে বসে মুম্বাই পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এখন পর্যন্ত এই মামলায় অভিযুক্ত তিন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী নদী থেকে উদ্ধার করা হয় বন্দুক। সেই অস্ত্র নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যও দিয়েছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগের ছক বানচাল হওয়ার পর লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল নতুন প্ল্যান করেছে সালমানকে তার বাগান বাড়িতে খুন করার।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালমানের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর কেসের সম্পূর্ণ ডিটেল হাতে পেয়েছে পুলিশ। মূলত সেখান থেকেই তারা দেখতে পেয়েছেন একটি এফআইআরের কপি যেখানে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকায় থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের তুতো ভাই আনমোল বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রার একজন পাকিস্তানি অস্ত্র সাপ্লায়ারের কাছ থেকে একে ৪৭, এম ১৬, একে ৯২ ইত্যাদি কিনেছিল।
পুলিশ জানায়, এই অস্ত্র দিয়ে সালমানের গাড়ি উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল এবং তার ফার্ম হাউস তছনছ করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তারপরও বাড়ির বাইরে গিয়ে গুলি করার মতো দ্বিতীয় প্ল্যান তারা কেন বানাল সেটা নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছে পুলিশ।
১৯৯৮ সাল থেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে রয়েছেন সালমান খান। ওই বছরই একটি সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে রাজস্থানে একটি কৃষ্ণসার হরিণ মারেন এই অভিনেতা। আর এই কৃষ্ণসার হরিণকে দেবতারূপে পুজা করে বিষ্ণোই গ্যাং। এরপর থেকেই সালমানকে হত্যা করতে চাচ্ছে গ্যাংটি। একাধিকবার হুমকির পর শেষ পর্যন্ত তার বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।