প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪ ১৩:০০ পিএম
বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে আজকের এ দিনে ৭২ বছরে পা রাখতেন তিনি। তার জন্মদিন উপলক্ষে আজ বুধবার বিকাল ৫টায় চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দায় তাকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের লেখা ‘হুমায়ুন ফরীদি সাধারণ এক অসাধারণ’ বইটি সম্পাদনা করেছেন আহমেদ রেজাউর রহমান এজাজ। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনের ব্যক্তিত্বরা স্মরণ করবেন প্রয়াত এই অভিনেতাকে।
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন ফরীদি। বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে ফরীদি ছিল দ্বিতীয়। ১৯৬৫ সালে পিতার চাকরির সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন ফরীদি। এ সময় মাদারীপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। তার নাট্যাঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের দত্রিরত্নদ নাটকে দরত্নদ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জীবনে প্রথম দর্শকদের সামনে অভিনয় করেন। এরপর ওই সংগঠনের সদস্য হয়ে ‘টাকা আনা পাই’, ‘দায়ী কে‘, ‘সমাপ্তি’, ‘অবিচার’সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন।
১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর চাঁদপুর সরকারি কলেজ এ পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল দীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। আর এ উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন।
এরপর তিনি গণমাধ্যমে অনেক নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯০ দশকে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন ফরীদি। সেই ঘরে দেবযানি নামে মেয়ে রয়েছে তাদের। পরে তিনি বিয়ে করেন নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে। ২০০৮ সালে সেই বিয়েও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০১২ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ কিংবদন্তি।