প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৪ ২২:০৪ পিএম
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। প্রবা ফটো
দেশে কপিরাইট আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সকল ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চবি) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়া সম্ভব। একইসঙ্গে এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে পূর্বের সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের আয়োজনে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ কপিরাইট আইন- ২০২৩ এর প্রয়োগ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কপিরাইট রেজিস্টার মো. দাউদ মিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী ও অধ্যাপক বেনু কুমার দে, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। প্রবন্ধ উপস্থপন করেন লেখক- গবেষক খান মাহবুব।
উপাচার্য বলেন, ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টির মালিকানা রক্ষায় কপিরাইট আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কপিরাইটের গুরুত্ব বিবেচনা করে বর্তমান সরকার কপিরাইট আইন-২০২৩ প্রণয়ন করেছে। এ সময় মানবসম্পদের পাইরেসি বন্ধ করাসহ মেধার প্রকৃত মূল্যায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সকলকে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য।
ড. আবু তাহের বলেন, মেধাস্বত্বের বিষয়ে এখন আর গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টির অধিক গুরুত্ব রয়েছে। ফটোকপি করার ক্ষেত্রে কপিরাইট আইনের রীতিশুদ্ধু পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। আগামী বিশ্বের অবস্থা বিবেচনা করে মেধা স্বত্বের জন্য এখনি আমাদের বিস্তৃত ও উপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।
মূল প্রবন্ধে খান মাহবুব বলেন, কপিরাইট আইন- ২০২৩ সহজীকরণ করার লক্ষ্যে ২০০০ সালের পুরাতন আইনকে ভেঙে ধারা, উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে মেধাসম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কপিরাইট আইনের রক্ষণে সচেতনতা একটি বড় বিষয়। সমাজের সবার অংশগ্রহণ বিশেষত সৃজনশীল মানুষের এতে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। সর্বোপরি পাইরেসিকে প্রতিরোধ করার জন্য সকলের ঐক্যতানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কপিরাইট রেজিস্ট্রার দাউদ মিয়া বলেন, নতুন কপিরাইট আইনে প্রয়োগ ক্ষেত্রে পূর্বের সমস্যাগুলোর অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আমরা মনে করি। আইনের প্রতিপালনের সুবিধার জন্য দ্রুত প্রবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কপিরাইট অফিসের কাজে সুবিধার জন্য কপিরাইট ট্রাস্কফোর্সকে আইনের ভেতর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেধাসম্পদের মাধ্যমে সৃজনশীল মানুষ যেন অধিক আয় অর্জন করতে পারে সে বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে আমাদের সবাইকে একযোগে কপিরাইট নিয়ে কাজ করতে হবে তবে এক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাবে।