বাসচাপায় দুই সহপাঠীর মৃত্যু
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ০০:১৫ এএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ১১:০৪ এএম
সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১০ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে কাপ্তাই সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।
গত মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। ওই সভায় চুয়েটের ভিসি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় আসেন চুয়েটের উপাচার্য রফিকুল আলম, সহ-উপাচার্য জামাল উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানান। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের মেনে নেওয়া দাবি রাতের মধ্যে লিখিত আকারে প্রকাশের শর্তে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে কাপ্তাই সড়ক ছেড়ে দেন। তবে সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বুধবার সকাল ৮টা থেকে আবার সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শত শত শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি সড়কে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বলেন, বাসমালিক সমিতি ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছে। এ টাকা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা হলো। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো কাপ্তাই সড়কে চলাচল করা লোকাল বাস এবি ট্রাভেলস ও শাহ আমানতের রুট পারমিট বাতিল, চুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তালহা জুবায়ের। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘এই দুটি বাসের চাপায় প্রতি মাসেই কয়েকজন যাত্রী নিহত হয়। তারা অনেক বেপরোয়া। স্থানীয়রাও এর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাব।’
বাসচালক গ্রেপ্তার
বুধবার দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া শাহ আমানত বাসের চালক মো. তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চালককে গ্রেপ্তার করেছি। পুলিশ কাজ করছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
সড়ক অবরোধে যাত্রী ভোগান্তি
অবরোধের ফলে গত তিন দিন ধরে ওই সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাইয়ের সাধারণ যাত্রীরা। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, যেসব দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন সেসব দাবির সঙ্গে স্থানীয়রাও একাত্ম আছেন। এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়রাও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পাবেন।
বুধবারের অবরোধে কাপ্তাই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তবে বিকল্প উপায়ে যাতায়াত চালু রেখেছেন স্থানীয়রা।
নিরাপদ সড়কের এই আন্দোলনের ফয়দা তুলেছে স্থানীয় সিএনজি চালকরা। এ কারণে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়েছে তাদের। চুয়েট ফটকের আগে ও পরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাত্রী পারাপার করে অটোরিকশাচালকরা। অর্থাৎ চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশা দিয়ে চুয়েট ফটকের আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হেঁটে ফটক পার হয়ে আরেক অটোরিকশায় উঠে গন্তব্যে যায় যাত্রীরা।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার জিয়ানগরে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন চুয়েটের তিন শিক্ষার্থী। দ্রুতগতির শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে মারা যান চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক হোসাইন। এ ঘটনায় আহত হন জাকারিয়া হিমু। তিনি চুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই দিন সন্ধ্যায় দুই সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিনটি বাস ভাঙচুর ও একটি বাসে আগুন দেন। ক্ষতিগ্রস্ত চারটি বাসই শাহ আমানত পরিবহনের।