বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৪ ১৪:২১ পিএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪ ১৫:১০ পিএম
কর্মিসভা উপলক্ষে হাবিপ্রবিতে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এক যুগ পর শাখায় ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার (১১ মার্চ) এক কর্মিসভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বেলা ৩টায় সভাপতি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
রবিবার (১০ মার্চ) বিকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মিসভা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
এতে বলা হয়, এবারের কমিটিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবীরাই স্থান পাবে।
ক্যাম্পাসের সিনিয়র নেতারা যারা কমিটিতে আসার জন্য সিভি দিয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ এবং ক্লিন ইমেজের তাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে স্থান দেওয়া হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে কর্মিসভা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিভি জমা দেওয়ার দিনে দিনাজপুর শহর থেকে বহিরাগত এনে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এবার বহিরাগত প্রবেশের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আগমনে ছাত্রদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। ছাত্রলীগের ছেলেরাও সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করছে কর্মীসভা সফলের জন্য। ক্যাম্পাসে ৭০ জন আনসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বপালন করছেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘সৎ, যোগ্য ও মেধাবীরাই এবার স্থান পাবে। কর্মিসভার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মধ্যে নানা গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে। নেতৃত্ব না থাকায় ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
ক্যাম্পাসে সিনিয়র ব্যাচ যাদের ছাত্রত্ব শেষ বা শেষের দিকে তাদের বাদ দিয়ে পরের সারির কর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রায় এক যুগ পার হলেও নতুন কমিটি পায়নি হাবিপ্রবির শাখা ছাত্রলীগ। সবশেষ ২০১০ সালে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি ও কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।
২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী ও উপক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসেই জমা নেওয়া হয় জীবনবৃত্তান্ত এবং সেখানে মোট ২৮৯ জন পদপ্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। তার মধ্যে ১০ জন ছাত্রী। এ ছাড়াও এর আগে ২০১৬ সালেও জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।